ঢাকায় কঙ্কাল পাচারচক্রের সন্ধান

রাজধানী ঢাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি এবং বিপুল পরিমাণ মানবদেহের হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কঙ্কাল পাচারচক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অবৈধভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি সংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের একটি বিশেষ দল রাজধানীর কয়েকটি স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন চার ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি ছাড়াও বিপুল পরিমাণ মানব হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে মানবদেহের হাড় ও কঙ্কাল সংগ্রহ করে আসছিল। এসব কঙ্কাল তারা অবৈধভাবে সংরক্ষণ করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করত বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মানব কঙ্কাল চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণাগার কিংবা অবৈধ সংগ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন সময় উচ্চ দামে বিক্রি হয়ে থাকে। ফলে এই ধরনের উপকরণকে ঘিরে একটি গোপন বাজার গড়ে ওঠার সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে উদ্ধার হওয়া খুলিগুলো ঠিক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্য উৎস হিসেবে কবরস্থান, হাসপাতালের মর্গ কিংবা অন্য কোনো স্থান থেকে কঙ্কাল চুরির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব কঙ্কাল স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো জেলা বা অঞ্চল থেকে এনে রাজধানীতে মজুত করা হয়েছিল—সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামতের প্রাথমিক তথ্য নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—

উদ্ধারকৃত আলামতপরিমাণ
মানুষের মাথার খুলি৪৭টি
বিভিন্ন মানব হাড় ও কঙ্কালবিপুল পরিমাণ
গ্রেফতার ব্যক্তি৪ জন
অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থাঢাকা মহানগর পুলিশ (তেজগাঁও বিভাগ)

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রটি কতদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং তাদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না—তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলো কোথায় বিক্রি করা হতো, কারা এর সম্ভাব্য ক্রেতা এবং এই চক্রের সঙ্গে কোনো বড় নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কঙ্কাল সংগ্রহের উৎস, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং পাচারের সম্ভাব্য রুট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহের কঙ্কাল অবৈধভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা বিক্রি করা আইনত গুরুতর অপরাধ। একই সঙ্গে এটি সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাই এই ধরনের চক্র শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং কবরস্থান, হাসপাতাল ও অন্যান্য সম্ভাব্য উৎসে নজরদারি জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় কবরস্থানসহ সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

Is this conversation helpful so far?