ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের একটি চালান আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের বাণিজ্য ও পরিচালনা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানিয়েছেন, ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করবে এবং পরবর্তীতে তা সংরক্ষণাগারে জমা রেখে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এই ডিজেল সরবরাহ করা হবে, যাতে কৃষি, পরিবহন ও শিল্পখাতে জ্বালানির ঘাটতি না দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভারত–বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি নতুন গতি এসেছে। আগে সমুদ্রপথে ট্যাংকার কিংবা স্থলপথে ট্যাংক লরির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন করতে দীর্ঘ সময় লাগত এবং এতে পরিবহন ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি ছিল। কিন্তু পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি জ্বালানি পরিবহনের ফলে সময় ও ব্যয়—দুটিই কমেছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও হয়েছে অধিকতর নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এই পাইপলাইন প্রকল্প শুধু জ্বালানি পরিবহনের একটি আধুনিক পদ্ধতি নয়, বরং এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। পাইপলাইনের মাধ্যমে আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা সম্ভব হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্প্রতি দেশে কৃষিকাজের মৌসুম, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতের চাহিদা বাড়ার কারণে জ্বালানি তেলের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে সরকার অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করেছে।
এরই অংশ হিসেবে গত রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ আগামী চার মাসের মধ্যে অতিরিক্ত পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উপস্থাপন করে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার ধারাবাহিকতায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টনের বর্তমান চালানটি দ্রুত পাঠানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। এতে শিল্প উৎপাদন, কৃষি কার্যক্রম এবং পরিবহন ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
বর্তমান চালান ও সম্ভাব্য সরবরাহ পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পরিমাণ | উৎস | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| বর্তমান চালান | ৫,০০০ মেট্রিক টন | আসাম, নুমালিগড় শোধনাগার | পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ |
| প্রস্তাবিত অতিরিক্ত সরবরাহ | ৫০,০০০ মেট্রিক টন | ভারত | আগামী চার মাসে সরবরাহের প্রস্তাব |
| সরবরাহ পদ্ধতি | পাইপলাইন | ভারত–বাংলাদেশ সংযোগ | পরিবহন ব্যয় ও সময় সাশ্রয় |
বিশ্লেষকদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে এবং জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
