কালীগঞ্জে হেরোইনসহ আটক ২: ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড প্রদান

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে হেরোইন রাখা ও সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৭ মার্চ) উপজেলার মুনসুরপুর এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা মাদক সেবনের পাশাপাশি নিজেদের কাছে নিষিদ্ধ মাদক সংরক্ষিত রেখেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই দিনে জনস্বার্থ রক্ষায় উপজেলার বেশ কয়েকটি জ্বালানি তেল বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানেও (পেট্রোল পাম্প) প্রশাসনিক নজরদারি ও অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের বিবরণ ও দণ্ডপ্রাপ্তদের তথ্য

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনা করে। মুনসুরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আল আমিন ও আহিজুল শিকদার নামের দুই ব্যক্তিকে চার পুরিয়া হেরোইনসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, আটকের পর অভিযুক্তরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের শাস্তির আদেশ দেন।

আদালতের কার্যক্রম ও দণ্ডপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
অভিযান পরিচালনাকারীজাকিয়া সরওয়ার লিমা (সহকারী কমিশনার, ভূমি)
আটককৃত ব্যক্তি ১আল আমিন মিয়া (২৪), পিতা: বাচ্চু মিয়া
আটককৃত ব্যক্তি ২আহিজুল শিকদার (৪৫), পিতা: সাহিদ শিকদার
উদ্ধারকৃত আলামত০৪ (চার) পুরিয়া হেরোইন
প্রদত্ত দণ্ডপ্রত্যেকের ০১ (এক) মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড
আইনি সহযোগিতাআব্দুল আলীম (উপপরিদর্শক, কালীগঞ্জ থানা)

জ্বালানি তেলের বাজারে প্রশাসনিক নজরদারি

মাদকবিরোধী অভিযানের পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সঠিক মান বজায় রাখা এবং ওজনে কারচুপি রোধে উপজেলার কয়েকটি পেট্রোল পাম্প মনিটরিং করা হয়। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই অভিযান চালানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। তরুণ সমাজকে মাদকের মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কারাদণ্ড প্রদানের মূল উদ্দেশ্য হলো অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং সমাজের অন্যদের কাছে একটি সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এলাকায় মাদক সেবন ও কেনাবেচা বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছিল। প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধের মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই মাদকবিরোধী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।