আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়নের জটিল চক্র পরিচালনার অভিযোগে ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক জোবাইদুল আমিনকে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। তিনি ২০২২ সালের জুলাই থেকে পলাতক ছিলেন এবং কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক শিশু নিপীড়ন ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে অনুসন্ধান চলছিল।
এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, “মালয়েশিয়ার সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় অংশীদারদের সহযোগিতায় এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে জোবাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪ মার্চ তিনি নিরাপদভাবে আলাস্কার ফেডারেল আদালতে হাজির হয়েছেন।” এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিশু সুরক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কতা পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জোবাইদুলকে ৫ মার্চ ডিস্ট্রিক্ট অব আলাস্কার আদালতে উপস্থিত করা হবে। অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ আছে যে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের খুঁজে বের করতেন এবং তাদের যৌনতামূলক ছবি ও ভিডিও তৈরিতে বাধ্য করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিদেশে শত শত শিশুর উপর তাঁর অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করছিলেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তাঁকে শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এরপর থেকে এফবিআই এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে জোবাইদুলকে ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
অভিযুক্তের তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | জোবাইদুল আমিন |
| বয়স | ২৮ বছর |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| গ্রেপ্তারের স্থান | মালয়েশিয়া |
| যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর | আলাস্কা, ৪ মার্চ ২০২৬ |
| অভিযোগ | আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়ন, শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি, অন্যান্য অপরাধ |
| সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহৃত | ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট |
| সম্ভাব্য শাস্তি | ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড |
নিউইয়র্ক থেকে প্রথম আলোর প্রতিবেদক জানিয়েছেন, জোবাইদুলের বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি ২০২২ সালে অভিযোগ আনে। অভিযোগের মধ্যে আলাস্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চলে পরিচালিত আন্তর্জাতিক শিশু নিপীড়ন চক্রের সঙ্গে তার সম্পর্কও অন্তর্ভুক্ত।
এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত ও মামলা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে শিশু সুরক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
এই গ্রেপ্তার ও মামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম ও যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যৌথ প্রচেষ্টার একটি দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
