ঢাকায় জ্বালানি সংকট: পাম্পে দীর্ঘ সারি ও বিক্রয় ঘাটতি

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জ্বালানি তেল ও গ্যাস বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানত ডিজেল ও পেট্রোলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ট্যাঙ্ক ফুল করার প্রবণতার কারণে কিছু পাম্পে বিক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয় ও পর্যাপ্ত রিজার্ভ নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

সকাল সোয়া ৯টার দিকে মিরপুর-২-এর স্যাম অ্যাসোসিয়েটস পাম্পে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি, যারা ট্যাঙ্ক পূর্ণ করার জন্য অপেক্ষা করছেন। বিক্রয়কর্মীরা জানাচ্ছেন, ক্রেতাদের অধিকাংশই পুরো ট্যাঙ্ক ভর্তি তেল চাইছেন।

মোটরসাইকেল চালক সালাম মিয়া জানিয়েছেন, “আমি প্রতিদিন ২০০–৩০০ টাকার তেল ব্যবহার করি, কিন্তু আজ টাকা জমিয়ে ট্যাঙ্ক ফুল করেছি। কারণ তেল না পেলে আমার দৈনন্দিন আয় ব্যাহত হবে।”

পাম্প পর্যবেক্ষণ ও বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নিম্নলিখিত তথ্য পাওয়া গেছে:

পাম্পের নাম ও এলাকাবিক্রয় পরিস্থিতিমজুত রিজার্ভ (লিটার)মন্তব্য
স্যাম অ্যাসোসিয়েটস, মিরপুর-২ডিজেল খোলা ড্রাম বিক্রি বন্ধ5,000মোটরসাইকেল চালকদের ট্যাঙ্ক পূর্ণ করা প্রাধান্য
খালেক পাম্প, কল্যাণপুরসব ধরনের যানবাহনের চাপ বেশিপ্রায় ২০,০০০দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাহিদা বেশি
তালুকদার ফিলিং স্টেশন, আসাদগেটবিক্রি সাময়িক বন্ধপ্রায় ৪০০ডিপো থেকে সরবরাহ আসছে না; ন্যূনতম রিজার্ভ রাখা প্রয়োজন
ট্রাস্ট রিফুয়েলিং, বিজয় সরণিসারি সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃতঅজ্ঞাতসারির শেষ প্রান্ত ৩৫০ মিটার দূরে; ৯৭টি গাড়ি অপেক্ষমাণ
কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনসব ধরনের জ্বালানি ও এলপিজি বিক্রি বন্ধশূন্যরাতের মজুত শেষ হয়ে গেছে

পাম্পের ক্যাশিয়ার শরীফ আহমেদ জানালেন, “সাধারণত ২০–২৭ হাজার লিটার থাকে, এখন প্রায় ৫ হাজার লিটারে নেমেছে। তাই খোলা বিক্রি বন্ধ রেখে শুধুমাত্র যানবাহনে তেল দিচ্ছি।”

কল্যাণপুরের খালেক পাম্পেও যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১.৫–২ গুণ বেশি। তালুকদার ফিলিং স্টেশনে পাম্পের ভেতরে ঢোকার অংশ বাঁশ দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ সারি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

পাম্পে বিক্রি বন্ধ রাখার মূল কারণ হচ্ছে ডিপো থেকে সরবরাহ না আসা। তালুকদার পাম্পের ব্যবস্থাপক তন্ময় বাড়ৈ জানিয়েছেন, বিকেলের বা সন্ধ্যার দিকে সরবরাহ আসলে বিক্রি পুনরায় শুরু হবে, তবে বরাদ্দ মাত্র ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্যাঙ্ক ফুল করার প্রবণতা এবং অপরিকল্পিত সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকার পাম্পগুলোতে সংকট আরও গভীর হচ্ছে। যথাযথ রিজার্ভ ও সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা ছাড়া সাধারণ মানুষ এবং যানবাহনের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

সামগ্রিকভাবে, ঢাকার জ্বালানি পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে শুধুমাত্র সরবরাহ বাড়ানো যথেষ্ট নয়; সচেতন পাম্প ব্যবস্থাপনা, রিজার্ভ পর্যবেক্ষণ ও যানজট নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।