পীর তৌহিদুল গ্রেপ্তার: খাদেম জয়নাল হত্যা চাঞ্চল্য

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় খাদেম জয়নাল সরদার হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী, সুরেশ্বর দরবারের গদীনশীন পীর তৌহিদুল হোসাইন শাহীন নূরী (৪৯)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) ভোরে তার নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার আস্তানা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত

পুলিশ ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে জয়নাল সরদার বাড়ি থেকে বের হন। রাত ৯টার দিকে তিনি মায়ের ওষুধ পৌঁছে দিতে বাইরে যান। কিন্তু রাত ১১টার মধ্যে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। পরদিন স্থানীয় একটি গ্যারেজে তার ব্যবহৃত চেয়ার ও টেবিল দেখতে পান স্বজনরা।

পরবর্তীতে ঘরিষার ইউনিয়নের আটপাড়া এলাকায় একটি পুকুরে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিবারের সদস্যরা মৃত জয়নাল সরদারকে শনাক্ত করেন।

পরিবারের তরফে ২৫ অক্টোবর জয়নালের মেয়ে ঈশা আক্তার (২০) নড়িয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল হক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করেন। এর মধ্যে মো. **রবিন শেখ (৩২)**কে মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও ফুটেজের ভিত্তিতে পীর তৌহিদুলকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

উদ্ধারকৃত আলামত

গ্রেপ্তারের সময় পীরের আস্তানা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নানাবিধ আলামত জব্দ করা হয়েছে। বিস্তারিত নিম্নরূপ:

আলামতপরিমাণ
চাকু১টি
শটগানের খালি কার্তুজ১৩৩টি
হার্ডড্রাইভ৬টি
এসএসডি১টি
ওয়াকিটকি সেট৪টি
ডিভিআর১টি
অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল৩টি
বাটন মোবাইল৪টি
শ্রীং সট রাইফেল২টি
শটগানের বিভিন্ন অংশ ও বক্সবহু

পুলিশি অভিযান ও প্রতিক্রিয়া

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যার কারণ উদঘাটন এবং অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের ভিত্তিতে মামলার কার্যক্রমও ত্বরান্বিত হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণ সংগ্রহে বোঝা যাচ্ছে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। আমরা অন্য জড়িতদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।”

স্থানীয় জনগণ এই হত্যাকাণ্ড ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আশ্বাস দিয়েছে, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনায় নড়িয়া ও আশপাশের এলাকা পুলিশের তৎপরতা ও জনগণের সজাগতা একযোগে প্রমাণ করছে যে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।