চাঁদাবাজ দমনে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শিগগির

দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দাগী অপরাধ দমনে শিগগিরই সমন্বিত বিশেষ অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দাগী আসামি ও সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই তালিকার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করবে।

বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি জানান, প্রথম ধাপে ঢাকা মহানগরীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মহানগর ও জেলা পর্যায়ে অভিযান বিস্তৃত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি কেবল অর্থ আদায়ের অপরাধ নয়; এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন খাত, নির্মাণ শিল্প এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাজার, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল, নির্মাণকাজ, ফুটপাত এবং বিভিন্ন সেবাখাতে সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অর্থ আদায় করে আসছে। এতে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বিনিয়োগে অনীহা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দুটি বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে নির্ভুল ও হালনাগাদ তালিকা প্রণয়ন করতে হবে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা শনাক্ত হয় এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন। দ্বিতীয়ত, গ্রেপ্তারের পর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রসিকিউশন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে। প্রয়োজন হলে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুত বিচার ব্যবস্থার আওতায় মামলাগুলো পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্বের মামলা, অভিযোগের ধরন, আর্থিক লেনদেনের উৎস, সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের সংযোগ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যও কাজে লাগানো হবে।

নিচে ঘোষিত উদ্যোগের প্রধান দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

উদ্যোগের ক্ষেত্রমূল কার্যক্রমবাস্তবায়নকারী সংস্থা
তালিকা প্রণয়নচাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও হালনাগাদডিএমপি ও গোয়েন্দা শাখা
বিশেষ অভিযানঢাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সমন্বিত অভিযানপুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
আইনগত ব্যবস্থাগ্রেপ্তার, মামলা দায়ের ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণপুলিশ ও প্রসিকিউশন বিভাগ
নজরদারি বৃদ্ধিবাজার, টার্মিনাল, নির্মাণ ও সেবাখাতে নিয়মিত মনিটরিংস্থানীয় থানা ও প্রশাসন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সমন্বিত পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে চাঁদাবাজি উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ স্বস্তি ফিরে পাবেন। তিনি নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজির তথ্য নিকটস্থ থানায় জানাতে আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; অপরাধী যে-ই হোক, প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”