রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ওবায়দুল্লাহ ওরফে বাদলের লাশের ছয়টি খণ্ড ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে এই লাশ হস্তান্তর করা হয়।
পরিবারের বরাত অনুযায়ী, লাশের বুকের অংশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। স্বজনরা জানান, ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় ধারা অনুসারে বাকি খণ্ডগুলো দিয়েই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে তার লাশ সাত খণ্ডে ভাগ করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ও শনিবার নয়াপল্টন, গুলিস্তান ও কমলাপুর থেকে কাটা দুটি হাত, দুটি পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়। আঙুলের ছাপ এবং অন্যান্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথ্যের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে শাহিন নামের এক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেও লাশের অন্যান্য খণ্ড উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওবায়দুল্লাহ ৩০ বছর বয়সী, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দি গ্রামের কৃষক হামিদ মিয়ার ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। এলাকার লোকজন তাকে ‘বাদল’ নামে চিনতেন।
আজ সকালে ওবায়দুল্লাহর লাশ নিতে মর্গে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা হামিদ মিয়া, চাচা মজিবর রহমান ও ছোট ভাই জলিল মিয়া। ময়নাতদন্ত শেষে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় তারা লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরেন।
মজিবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “লাশের ছয়টি খণ্ড আমরা নিয়ে এসেছি। বুকের অংশটি এখনো উদ্ধার হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই খণ্ড উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আজ মাগরিবের পর বাড়ির পাশের ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হবে।”
নিহতের জীবন ও কর্মজীবন:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | ওবায়দুল্লাহ ওরফে বাদল |
| বয়স | ৩০ বছর |
| পিতা | হামিদ মিয়া |
| গ্রামের নাম | তাতারকান্দি, সাধারচর, শিবপুর, নরসিংদী |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | এইচএসসি |
| পেশা | হোটেল কর্মী, হোমিও ওষুধ প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তা |
| শেষ বাড়ি ফেরা | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| লাশ খণ্ড সংখ্যা | ৭ (বুকে অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি) |
ওবায়দুল্লাহ শহরে প্রথমে হোটেলে কাজ করার পর হোমিও ওষুধ প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। নির্বাচন শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি আবার ঢাকায় ফিরে যান। মৃত্যুর পর তার পরিবারের কষ্ট ও শোক একদিকে, পুলিশি তদন্ত এবং খণ্ডিত লাশ উদ্ধার কার্যক্রম অন্যদিকে, পুরো ঘটনার জটিলতা তুলে ধরেছে।
এভাবে প্রিয়জনের লাশ ছয়টি খণ্ডে বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
