দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেনসহ সব কমিশনার মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। সকালের দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন, যার ফলে দুদকের শীর্ষ নেতৃত্বের পুরো কাঠামো নতুন করে গঠনের পথে পৌঁছেছে।
পদত্যাগ করা অন্যান্য দুই কমিশনার হলেন মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং হাফিজ আহ্সান ফরিদ। তারা দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক নম্বর ভবনে প্রবেশ করে প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বের হন।
ড. আবদুল মোমেনের কর্মজীবন দীর্ঘ ও আলোচিত। ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাকে যুগ্ম সচিব পদে দায়িত্ব পালন করার সময় বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও সরকারের পরিবর্তনের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তাকে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয় এবং ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অন্য দুই কমিশনারের নিয়োগও একই সময়ে হয়। পদত্যাগের মাধ্যমে দুদক এখন একটি অস্থায়ী শূন্যপদ পরিস্থিতির মুখোমুখি, যা দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।
দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগসমূহ
| নাম | পদ ও দায়িত্ব | নিয়োগের সময়কাল |
|---|---|---|
| ড. আবদুল মোমেন | যুগ্ম সচিব | ২০১৩ (বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত) |
| ড. আবদুল মোমেন | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব (চুক্তিভিত্তিক) | ৫ আগস্ট ২০২৪ |
| ড. আবদুল মোমেন | দুদক চেয়ারম্যান | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ |
| মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী | দুদক কমিশনার | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ |
| হাফিজ আহ্সান ফরিদ | দুদক কমিশনার | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ |
২০২৪ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ড. আবদুল মোমেনের দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। তিনি একাধিকবার ভোটারদের দুর্নীতিবাজদের প্রতি ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুদকসহ সরকারি কমিটি ও স্বচ্ছতা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের পদত্যাগ সাধারণত নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের পথ সুগম করে। তারা আরও সতর্ক করেছেন যে, নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সময়মতো সম্পন্ন হলে দুদকের কার্যক্রমে সুষ্ঠু পরিবর্তন সম্ভব হবে।
পদত্যাগের এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং দুর্নীতি দমন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। প্রশাসনের ওপর এখন দায়িত্ব আসে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করে দুদকের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুদক একটি “নেতৃত্ব পুনর্গঠন পর্যায়”–তে প্রবেশ করেছে, যা সংস্থার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
