বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক আফরিনা রহমানের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে শেষ পর্যন্ত চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) দুপুরে ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপত্রী প্রীতিলতা বর্মন সাংবাদিকদের জানান, “এই বিষয়টি আগে জানা ছিল না। তবে দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে আফরিনা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শিক্ষিকা ২৬ ফেব্রুয়ারি নিজ ইচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি গ্রহণের আবেদন করেন। বিধিমোতাবেক তার আবেদন গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আফরিনা রহমান ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (এসটিআরসিএ) কর্তৃক সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হন। ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর তিনি ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা সূত্রে জানা যায়, আফরিনা রহমান মাসে মাত্র একদিন বিদ্যালয়ে হাজিরা দিয়ে সই করতেন। এরপর তিনি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণ মাসের বেতন উত্তোলন করতেন। বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
পদক্ষেপ এবং ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বিদ্যালয়ের নাম | ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, ধুনট, বগুড়া |
| অভিযুক্ত শিক্ষিকা | আফরিনা রহমান |
| পদ | সহকারী শিক্ষক (গণিত) |
| নিয়োগ প্রক্রিয়া | বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (এসটিআরসিএ) |
| নিয়োগ সুপারিশ তারিখ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ |
| যোগদানের তারিখ | ১ অক্টোবর ২০২৩ |
| অভিযোগ | কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পুরো মাসের বেতন উত্তোলন |
| পদত্যাগ তারিখ | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| পদক্ষেপ | বিধিমোতাবেক অব্যাহতি প্রদান |
বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, শিক্ষকদের নিয়োগ ও উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি না থাকলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানে প্রভাব পড়তে পারে। তারা আরও জানিয়েছেন, শিক্ষক ও কর্মকর্তা যারা অনিয়মে জড়িত তাদের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এই ঘটনার পর বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, ভবিষ্যতে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষক বা কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষকের উপস্থিতি শিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, অনুপস্থিত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই ঘটনায় বগুড়ার শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক উপস্থিতি নিরীক্ষণের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে বিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং শিক্ষার্থীরা गुणवत्तাসম্পন্ন শিক্ষা পেতে পারে।
