মধ্যপ্রাচ্যের দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম আবুল মহসিন, পরিচিত নাম তারেক (৫২)। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নে। বাহরাইনের স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে তিনটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পরিবারের বরাত অনুযায়ী, আবুল মহসিন বাহরাইনের রাজধানী মানামায় আরসি ড্রাইডক নামক একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, ওই প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবুল মহসিন নিহত হন। নিহতের শ্যালক রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ছয়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। লাশ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবুল মহসিন ২০০৯ সালে বাহরাইনে প্রবাসী হিসেবে যান এবং তিনি এক কন্যাসন্তানের বাবা। তাঁর পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম নগরে বসবাস করেন। সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর জানান, “বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সন্দ্বীপের এক প্রবাসীর নিহত হওয়ার সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”
ইরানের হামলা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে, বিশেষ করে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। বাহরাইনসহ এসব দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় সেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর আগে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। নিহতের নাম সালেহ আহমদ। গত শনিবার রাতে দুবাইয়ের আজমান এলাকায় ইরানের বোমা হামলায় তিনি মারা যান।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | নাম | বয়স | ঠিকানা (বাংলাদেশ) | প্রবাসী অবস্থান | হামলার তারিখ ও স্থান | লক্ষ্যমাত্রা |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | আবুল মহসিন (তারেক) | ৫২ | চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ, আজিমপুর | বাহরাইন, মানামা | ২রা মার্চ, রাত ৩.৩০, মানামা | আরসি ড্রাইডক প্রতিষ্ঠান |
| ২ | সালেহ আহমদ | অজানা | চট্টগ্রাম | সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই | ১লা মার্চ, রাত, আজমান শহর | বোমা হামলা |
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে। হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হওয়ার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। প্রবাসীরা সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
