ধানখেতে স্কুলশিশুর মরদেহ উদ্ধার

রাজশাহীর পবা উপজেলার বিল ধরমপুর এলাকায় একটি ধানখেত থেকে ১১ বছর বয়সী এক স্কুলশিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে। শান্ত ও নিরিবিলি গ্রামীণ পরিবেশে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সোমবার (২ মার্চ) ভোরে কয়েকজন কৃষক প্রতিদিনের মতো জমিতে কাজ করতে গিয়ে ধানখেতের ভেতরে একটি শিশুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে তারা লক্ষ্য করেন, শিশুটির গলায় একটি প্যান্টের বেল্ট শক্তভাবে প্যাঁচানো রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের অধীন কর্ণহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত শিশুর নাম আদিব আহনাফ (১১)। সে বিল ধরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র এবং স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (১ মার্চ) রাতে আদিব তার দাদা শামসুল হুদার সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। নামাজ শেষে কোনো এক সময় সে দাদার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি।

রাত গভীর হলেও আদিবের সন্ধান না মেলায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় আশপাশের এলাকা, আত্মীয়দের বাড়ি, বাজার ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। কিন্তু রাতভর অনুসন্ধানেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। অবশেষে সোমবার সকালে ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হলে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহতের মামা মোকছেদ আলী অভিযোগ করেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তার দাবি, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
নিহতের নামআদিব আহনাফ
বয়স১১ বছর
শ্রেণিচতুর্থ
বিদ্যালয়বিল ধরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ঘটনার স্থানবিল ধরমপুর, পবা, রাজশাহী
নিখোঁজের সময়রোববার রাত
মরদেহ উদ্ধারের সময়সোমবার ভোর
প্রাথমিক ধারণাশ্বাসরোধ করে হত্যা
তদন্তকারী সংস্থারাজশাহী মহানগর পুলিশ, কর্ণহার থানা

এ ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার এবং রাতের বেলা চলাচলে সতর্কতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। গ্রামীণ সমাজে সামাজিক নজরদারি জোরদার, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং শিশুদের একা চলাচল না করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।