যুক্তরাষ্ট্রের নাম না নিয়ে ইরানে হামলার নিন্দা জামায়াত আমিরের

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির ও যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার (১ মার্চ, ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলা এবং এর প্রেক্ষিতে পাল্টা পাল্টি আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁর এই নাতিদীর্ঘ বিবৃতিতে সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্র’ শব্দটির উল্লেখ না করে তিনি কূটনৈতিক ভাষায় বিশ্বনেতাদের ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।

সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেকোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং বেসামরিক মানুষের জীবনকে বিপন্ন করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানান। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই সংঘাত যেভাবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াত আমিরের মতে, এ ধরনের সংঘাতের বিস্তার কেবল ধ্বংসই ডেকে আনবে।

ইরানের পাল্টা হামলার সমালোচনা

ইসরায়েল ও তার মিত্রদের হামলার জবাবে ইরান যেভাবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, সেটিকেও ‘অকার্যকর’ ও ‘পরিস্থিতি অবনতিকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। তাঁর মতে, পাল্টা হামলা কোনো সমাধান নয়, বরং এটি সংলাপের পথকে চিরতরে রুদ্ধ করে দিতে পারে।

নিচে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জামায়াত আমিরের বিবৃতির প্রধান দিকগুলো একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

প্রসঙ্গের ক্ষেত্রজামায়াত আমিরের অবস্থান ও মন্তব্য
ইসরায়েলের ভূমিকাইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে অস্থিতিশীলতামূলক ও শান্তি বিনষ্টকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইরানের পাল্টা আঘাতপ্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে অকার্যকর ও বিপজ্জনক হিসেবে নিন্দা।
নেতৃবৃন্দকে হত্যাআন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রবণতাকে ‘বিপজ্জনক নজির’ আখ্যা।
যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখসরাসরি নাম না নিয়ে আধিপত্যবাদী আচরণের প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা।
সমাধানের পথসকল পক্ষকে যুদ্ধ পরিহার করে জরুরি ভিত্তিতে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফেরার আহ্বান।

রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করলেও, ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তু করে হত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত আইনি কাঠামোর তোয়াক্কা না করে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এটি বিশ্বকে এক দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা এবং আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

বিবৃতিতে জামায়াত আমির মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি প্রবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধকবলিত বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিশেষে, ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, শক্তির আস্ফালন নয় বরং আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তিনি বিশ্ববিবেকের কাছে এই অমানবিক রক্তপাত বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।