যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ‘গ্যাংস্টার’ আখ্যা দিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের তীব্র নিন্দা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে এবার কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে উত্তর কোরিয়া। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ পদক্ষেপকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে পিয়ংইয়ং এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রবিবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডকে সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য

দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ‘কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি’ (KCNA) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। পিয়ংইয়ং মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বিনষ্টের জন্য সরাসরি দায়ী পশ্চিমা আধিপত্যবাদ। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ইরানের ওপর এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মদত ও সম্পৃক্ততা ছিল একেবারেই প্রত্যাশিত। উত্তর কোরিয়া মনে করে, মার্কিন প্রশাসনের ‘মাফিয়া’ ও ‘গ্যাংস্টার’ সুলভ আচরণের কারণেই এ ধরনের নগ্ন হস্তক্ষেপ সম্ভব হয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ ও পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান

উত্তর কোরিয়ার এই অবস্থান কেবল নিন্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্বরাজনীতির নতুন মেরুকরণকে নির্দেশ করে। পিয়ংইয়ংয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে নিজের একাধিপত্য বজায় রাখতে চায়। ইরানের ওপর এই হামলাকে তারা কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আত্মমর্যাদায় আঘাত হিসেবে দেখছে। নিম্নে উত্তর কোরিয়ার বিবৃতির প্রধান দিকগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হলো:

বিষয়ের ক্ষেত্রউত্তর কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক মন্তব্য ও অবস্থান
হামলার প্রকৃতিএকে ‘অবৈধ সামরিক আগ্রাসন’ এবং সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাওয়াশিংটনকে ‘গ্যাংস্টার’ ও ‘মাফিয়া’ সুলভ মানসিকতার ধারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের অবস্থানইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী আগ্রাসী শক্তি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাবএই হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইরানের প্রতি সংহতিজাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের অধিকারের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন জ্ঞাপন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিক্রিয়ার প্রভাব

উত্তর কোরিয়া বিশ্বাস করে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ মূলত রাশিয়া ও চীনের বলয়কে দুর্বল করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। পিয়ংইয়ংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই এই ধরনের যুদ্ধংদেহী আচরণ অগ্রহণযোগ্য। তারা মনে করেন, বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই কড়া প্রতিক্রিয়া ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। ফলে ইরানের ওপর আঘাতকে পিয়ংইয়ং নিজের নিরাপত্তার প্রতিও একটি পরোক্ষ হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিবৃতির শেষাংশে পিয়ংইয়ং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যদি একটি বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়, তবে তার দায় সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নিতে হবে। এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।