ওমানের মুসন্দম উপদ্বীপ সংলগ্ন হরমুজ প্রণালীতে রোববার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় জাহাজটিতে থাকা ২০ জন নাবিকের মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় এবং ৫ জন ইরানি নাগরিক রয়েছে। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, হামলায় চারজন নাবিক আহত হয়েছেন।
হামলার শিকার জাহাজটি হলো পালাউর পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘স্কাইলাইট’, যা মুসান্দামের খাসাব বন্দরের প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল উত্তরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। হামলার সঙ্গে জড়িত অস্ত্রের ধরন সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে হামলার সঙ্গে জড়িত নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাহাজটির নিবন্ধিত মালিক সি ফোর্স ইনকরপোরেটেড এবং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেড সি শিপ ম্যানেজমেন্ট এলএলসি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিষ্ঠান ও জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযোগ ছিল, তারা ইরানের পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ হিসেবে কাজ করছিল। জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম জানিয়েছে, ছোট এই ট্যাংকারটি মূলত অন্যান্য জাহাজে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয় এবং ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মুসান্দাম গভর্নরেট এলাকায় নোঙর করা ছিল।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এই রুট দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে সংযোগ স্থাপন হয় এবং বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহিত হয়। তাই এখানে সামরিক উত্তেজনা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর রেডিও বার্তায় ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য বন্ধ। একাধিক জাহাজ ভিএইচএফ বার্তায় সতর্ক করা হয় যে কোনো জাহাজকে প্রণালী অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। এর প্রভাব পড়েছে তেল কোম্পানি ও ট্যাংকার মালিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর; তারা সাময়িকভাবে এই রুটে চলাচল স্থগিত করেছে। সামুদ্রিক বিমা সংস্থাগুলোও ঝুঁকি বিবেচনায় কভারেজ প্রদান স্থগিত রেখেছে।
নিচে হামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হামলার স্থান | হরমুজ প্রণালী, মুসান্দাম, ওমান |
| জাহাজের নাম | স্কাইলাইট |
| জাহাজের পতাকা | পালাউর |
| নাবিক সংখ্যা | ২০ জন (১৫ ভারতীয়, ৫ ইরানি) |
| আহত নাবিক | ৪ জন |
| মালিক ও পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠান | সি ফোর্স ইনকরপোরেটেড, রেড সি শিপ ম্যানেজমেন্ট এলএলসি |
| যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা | ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাহাজ ও প্রতিষ্ঠান |
| নোঙর স্থিতি | ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মুসান্দাম গভর্নরেট |
| প্রণালীর বৈশ্বিক গুরুত্ব | বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন |
| সাম্প্রতিক সতর্কতা | ইরান ঘোষিত প্রণালী বন্ধ, নৌযান চলাচল সীমাবদ্ধ |
এই ঘটনা হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচলের উপর নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতে পারে।
