ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেইত শেমেশ শহরে অন্তত ৮ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হামলা রবিবার ঘটেছে, জেরুজালেম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বেইত শেমেশ এলাকায়। ইরান এই হামলায় ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা ইসরায়েলের এ্যারোডিফেন্স সিস্টেম প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শহরের বেশ কয়েকটি এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন।
ইরান-পোস্ট ইস্যুতে বলা হয়েছে, এই হামলার মাধ্যমে তেহরান ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের শক্তি প্রদর্শনের একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (IRNA) জানিয়েছে, তেহরান অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬০টি হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে কমপক্ষে ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এই তথ্য প্রদান করা হয়েছে তেহরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরাত দিয়ে।
বেইত শেমেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজন রয়েছেন। হাসপাতালগুলো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘিরে রেখেছে যাতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করা যায়।
এই হামলা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের উচ্চমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং ভবিষ্যতে সামরিক উত্তেজনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করছে।
নিচে হামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হামলার স্থান | বেইত শেমেশ, ইসরায়েল |
| হামলার তারিখ | রবিবার |
| নিহত | ৮ জন |
| আহত | প্রায় ২০ জন |
| ব্যবহারকৃত অস্ত্র | ভারী ক্ষেপণাস্ত্র |
| আকাশ প্রতিরক্ষা প্রতিরোধ | ব্যর্থ |
| ইরানের ২৪ ঘণ্টার হামলা | ৬০টি |
| তেহরানে নিহত | কমপক্ষে ৫৭ জন |
| তথ্যসূত্র | ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, Times of Israel, IRNA, তেহরান রেড ক্রিসেন্ট |
এই হামলা সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন উত্তেজনার সঙ্কেত বহন করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত সম্ভাব্যভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে বিপদে ফেলতে পারে। তাছাড়া, স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা রক্ষা করতে অস্থির সময় পার করছে।
সর্বশেষ খবর অনুসারে, ইসরায়েলের সরকারি ও সামরিক বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি দ্রুত আহতদের সেবা নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
