চাঁদাবাজি অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবকসহ গ্রেপ্তার ৩

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি, মারধর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগে এক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সঞ্চার করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করেছে।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে কলাপাড়া পৌর শহরের উকিল পট্টি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রধান অভিযুক্ত সুমন ফকিরকে। তিনি নীলগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। তার দুই সহযোগী হলেন সজীব ফকির ও মো. রাসেল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা জেলে চান মিয়া গাজী, যিনি দীর্ঘ বছর ধরে সরকারি খাল-বিলে মাছ শিকারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে সুমন ফকির ও তার সহযোগীরা খালে মাছ ধরার জন্য তাঁকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য করছিলেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে অভিযুক্তরা সশস্ত্র অবস্থায় চান মিয়ার বাড়িতে এসে চাঁদার দাবী জানান। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে মারধর করে খালে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে তার মেয়ে বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চান মিয়া জানান, এর আগেও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার পথেও সুমন বাহিনী তার গতিরোধের চেষ্টা করেছিল। তবে উপজেলা বিএনপির স্থানীয় নেতারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রবিউল ইসলাম জানান, চাঁদাবাজি ও মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, “অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং কেউ আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পাবে।”

গ্রেপ্তারকৃতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য

নামপদবী / পরিচিতিনিবাসঅভিযোগের ধরন
সুমন ফকিরনীলগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কনীলগঞ্জচাঁদাবাজি, মারধর, লুটপাট
সজীব ফকিরসহযোগীনীলগঞ্জচাঁদাবাজি, সহায়তা
মো. রাসেলসহযোগীনীলগঞ্জচাঁদাবাজি, সহায়তা

স্থানীয়রা পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী আশা করছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার কার্যকর করা হবে, যাতে পুনরায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসন আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে, যাতে জেলার জেলেরা নিরাপদে মাছ শিকার করতে পারেন এবং কেউ আইন ভঙ্গ করতে সাহস না পায়।