হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গৃহবীমা খাত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় আইনপ্রণেতারা বলছেন, বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়ে সাধারণ গৃহমালিকদের উপর এই বোঝা চাপানো ঠিক নয়; বরং বৃহৎ তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে হাওয়াইয়ের বহু গৃহমালিকের বীমা প্রিমিয়াম ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবী পরিবারগুলো জন্য এটি মারাত্মক আর্থিক চাপ তৈরি করছে। উদ্বেগজনকভাবে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বীমা কোম্পানিগুলোর ‘নন-রিনিউয়াল’ সিদ্ধান্ত তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প বা উচ্চমূল্যের কভারেজ নিতে হচ্ছে, আবার অনেকে সম্পূর্ণভাবে বীমাহীন অবস্থায় পড়ছেন।
সংশ্লিষ্ট আইনি উদ্যোগের অংশ হিসেবে, সিনেট বিল ৩০০০ হাওয়াইয়ের আইনসভা কমিটি থেকে অনুমোদন পেয়েছে। এই বিল হাওয়াইয়ের অ্যাটর্নি জেনারেল Anne Lopez-কে বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করার ক্ষমতা দেবে। লক্ষ্য হচ্ছে, বড় আবহাওয়া দুর্যোগ-পরবর্তী বীমা ব্যয়ের ন্যায্য অংশ এসব করপোরেশনের কাছ থেকে আদায় করা। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ১৯৯০-এর দশকে তামাক শিল্প এবং সাম্প্রতিক ওপিওয়েড সংকটের ক্ষেত্রে যেভাবে আইনি দায় নির্ধারিত হয়েছিল, একই ধরনের প্রক্রিয়া এখানে প্রয়োগ করা সম্ভব।
আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থ Hawai‘i Property Insurance Association-এর আর্থিক ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হবে। এই সংস্থা বেসরকারি কোম্পানি থেকে বীমা না পাওয়া গৃহমালিকদের কভারেজ দেয়। পাশাপাশি Hawai‘i Hurricane Relief Fund-এ অর্থায়ন জোরদার করা হবে, যা কন্ডোমিনিয়াম বীমার জন্য আর্থিক নিরাপত্তা সরবরাহ করে।
২০২৩ সালে মাউই দ্বীপে ভয়াবহ দাবানলে ১০০ জনের বেশি প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ২০০ কোটি ডলারের বীমাকৃত ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাহাইনার ক্ষয়ক্ষতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে রেকর্ড মাত্রার ঘূর্ণিঝড়গত বেগের বাতাস এবং দীর্ঘস্থায়ী খরা—উভয়ই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যসূত্রসূচি নিম্নরূপ:
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| প্রাণহানি | ১০০+ জন |
| বীমাকৃত ক্ষতি | ২০০ কোটি ডলার+ |
| মাউই কাউন্টির পুনরুদ্ধার ব্যয় | প্রায় ৭০০ কোটি ডলার |
| ২০২৫-২৬ প্রিমিয়াম বৃদ্ধি | ৫০% বা তার বেশি |
| ২০১৮-২৩ নন-রিনিউয়াল বৃদ্ধি | তিনগুণের বেশি |
সমালোচকরা উল্লেখ করছেন, বিশ্বের বৃহত্তম তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো ১৯৭০-এর দশক থেকেই তাদের পণ্যের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে অবগত ছিল। তবুও তারা জনমত বিভ্রান্ত করেছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর বিলম্বিত করেছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী Hawaiian Electric Co. দাবানল প্রতিরোধ তহবিল জোগাতে বিদ্যুৎদর বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে একদিকে বাড়ছে বীমা প্রিমিয়াম, অন্যদিকে বাড়ছে ইউটিলিটি বিল—হাওয়াইয়ের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও তীব্র করছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কের আইনপ্রণেতারাও অনুরূপ বিল উত্থাপন করেছেন। হাওয়াইয়ের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্টভাবে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বোঝা শুধুমাত্র সাধারণ করদাতার নয়; যারা লাভ করেছে, তাদেরও ন্যায্য অংশ পরিশোধ করতে হবে।
