নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরী হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা ও অন্য ছয় জনকে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই রিমান্ডের মাধ্যমে আসামিরা মামলার তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান এই রিমান্ড আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের জন্য নূরসহ সাতজনের দশ দিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত তার মধ্যে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মাধবদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওমর কাইয়ুম জানান, ধর্ষণে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তথ্য চাপা দেওয়ার জন্য সালিশ বৈঠক আয়োজন ও সহায়তা করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে হাজির হননি। নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান ভুইয়া জানান, সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মামলায় আসামি পক্ষকে কোনো আইনজীবী সহায়তা প্রদান করবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ দ্রুত চার্জশিট দাখিল করলে ছয় মাসের মধ্যে মামলা সমাপ্ত করা সম্ভব হবে। সমিতি বিশ্বাস করে, মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
উল্লেখযোগ্য, ২৫ ফেব্রুয়ারি নূর মোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা ছুরি দেখিয়ে কিশোরীকে জিম্মি করেন। পরে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং লাশ সরিষাখেতে ফেলে রাখা হয়। নিহতের মা মাধবদী থানায় নূরকে প্রধান করে নয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আসামিদের রিমান্ড ও অভিযোগের সংক্ষিপ্ত তালিকা
| আসামি নাম | গ্রেফতার তারিখ | রিমান্ড মঞ্জুর | অভিযোগ সংক্ষেপ |
|---|---|---|---|
| নূর মোহাম্মদ নূরা | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | ধর্ষণ ও হত্যা প্রধান |
| আসামি ২ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | ধর্ষণে সরাসরি জড়িত |
| আসামি ৩ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | ধর্ষণে সরাসরি জড়িত |
| আসামি ৪ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | ধর্ষণে সরাসরি জড়িত |
| আসামি ৫ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | সালিশ বৈঠক ও সহযোগিতা |
| আসামি ৬ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | সালিশ বৈঠক ও সহযোগিতা |
| আসামি ৭ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | সালিশ বৈঠক ও সহযোগিতা |
পুলিশ ও আইনজীবী সমিতি আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত চার্জশিট দাখিল ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে নৃশংস ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় পুরো মাধবদী এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ইতোমধ্যেই এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে, ধারাবাহিক ও ত্বরিত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার শিগগিরই সম্পন্ন হবে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি আনতে সাহায্য করবে।
