ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ মার্চ) করাচিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হয়ে জানালা ভাঙচুর এবং কিছু অংশে আগুন ধরিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র ভেরিফাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা মার্বেল ও লাঠি ব্যবহার করে দূতাবাসের সামনের অংশে হামলা চালাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের মতে, এই বিক্ষোভ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানের প্রতিবাদে শুরু হয়েছে, যা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যা করেছে।
ইরানি গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুসারে, হামলা শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছিল। ইরানের সরকারি ও আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এবং ফার্স নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে, এ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন। খবরের সঙ্গে যুক্ত ইরানি সরকার সাত দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক রিপোর্ট নিম্নরূপ:
| শহর/অঞ্চল | ক্ষয়ক্ষতি ধরণ | প্রাণহানি | সম্পত্তি ক্ষতি |
|---|---|---|---|
| তেহরান | সরকারি ভবন ও অবকাঠামো | ২০+ | গুরুতর |
| ইসফাহান | বেসামরিক এলাকা | ১৫ | মাঝারি |
| কুম | শিল্প এলাকা | ১০ | উল্লেখযোগ্য |
পাকিস্তানে বিক্ষোভকারীরা মূলত মার্কিন দূতাবাসের সামনে concentrated থাকলেও, লাহোর, ইসলামাবাদ ও পেশোয়ারের মতো শহরগুলোতেও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা ইরানকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনা মোতায়েন করেছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ডিউটিতে রাখা হয়েছে। করাচিতে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও, দূতাবাসের নিরাপত্তা প্রটোকল সক্রিয় থাকায় বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গ্রুপ। তারা সতর্ক করেছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক হুমকির কারণে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হতে পারে।
পাকিস্তানী জনমতও উত্তেজিত; সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন বার্তা ছড়াচ্ছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নীতির প্রতি তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামীদিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
এই বিক্ষোভ এবং হামলার ঘটনা শুধুমাত্র পাকিস্তান বা ইরানকে নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, তাহলে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপে অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হতে পারে।
এই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড কেবল দেশের মধ্যে নয়, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক স্তরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
