ক্রিকেট বিশ্বে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম আবারও তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার এইট পর্বে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ব্যর্থ হওয়ায় দলের সেমিফাইনাল সম্ভাবনা জটিল হয়ে পড়েছে। বিশেষত বাবরের ব্যাটিং ফর্ম ও নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ও বাবরের চাচাতো ভাই উমর আকমল সম্প্রতি পরোক্ষভাবে বাবরের পারফরম্যান্স নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন। উমর ইনস্টাগ্রামে ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তার ৯৪ রানের ইনিংসের ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেই ম্যাচে পাকিস্তান ২৫ রানে দুই উইকেট হারানোর পর তিনি নেমে মাত্র ৫৪ বল খেলে ৯৪ রান করেন এবং দলকে ১৯১ রানের সংগ্রহে পৌঁছে দেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করায় অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন এটি বর্তমান পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করে পরোক্ষ বার্তা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
সুপার এইট ম্যাচে পাকিস্তান আগে ব্যাট করে ১৬৪ রান সংগ্রহ করে। বাবর মাত্র ২৪ বল খেলে ২৫ রান করেন। ম্যাচ পরিস্থিতি এবং স্ট্রাইক রেটের কারণে এই ইনিংসকে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইংল্যান্ড দুই উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য পূরণ করে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে।
সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া নিম্নরূপ:
| সাবেক ক্রিকেটার | মন্তব্য |
|---|---|
| ইমাদ ওয়াসিম | ‘এভাবে আর কত ম্যাচ হাতছাড়া হবে? সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তার দায়িত্ব বেশি।’ |
| মোহাম্মদ আমির | ‘বাবরের ফর্ম এবং দলে নেতৃত্বের মান যথাযথ নয়।’ |
| আহমেদ শেহজাদ | ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ফর্ম হতাশাজনক।’ |
বিশ্লেষকদের মতে, টানা ব্যর্থতার কারণে বাবরের নেতৃত্বের ওপরও চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভিজ্ঞ ব্যাটারের ফর্ম এমন অবস্থায় থাকার ফলে পাকিস্তান শিবিরে মানসিক ও কৌশলগত চাপ তীব্র হয়ে উঠেছে।
উমর আকমলের ভিডিও পোস্ট এবং সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা একত্রে দেখালে বোঝা যায়, পাকিস্তানের ভক্তরা নতুন কৌশল ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন। যদিও বাবর দেশের অন্যতম প্রধান ব্যাটার, তার বর্তমান পারফরম্যান্স দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার উদাহরণ এবং পেশাদারদের মন্তব্যের কারণে ক্রিকেট অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামনে শুধুমাত্র সেমিফাইনাল নয়, দলের মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
স্পষ্ট যে, বাবরের পারফরম্যান্সের ওপর চাপ এবং উমর আকমলের বার্তা পাকিস্তান দলের জন্য নতুনভাবে চিন্তা ও পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। দল এখন কেবল ব্যক্তিগত ব্যাটিং নয়, সামগ্রিক কৌশল ও নেতৃত্বের উন্নয়নের দিকে নজর দিতে বাধ্য।
