দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের ফ্লোরিডার পাম বিচে ভাড়া করা একটি গোপন স্টোরেজ লকারে মানবপাচার ও যৌন শোষণের বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে। লকারটি তল্লাশি চালিয়ে প্রাপ্ত সামগ্রীর মধ্যে যৌনদাসী তৈরির নির্দেশিকা (manual), কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ, ভিডিও টেপ, নগ্ন নারীদের ছবি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি অন্তর্ভুক্ত। তল্লাশি কর্মকর্তারা লকারে নারী ম্যাসাজকারীদের তিন পাতার একটি তালিকাও উদ্ধার করেছেন।
সংবাদমাধ্যম-এর বলা হয়েছে, লকারটিতে কয়েক ডজন পর্নোগ্রাফিক ম্যাগাজিন, ডিভিডি এবং কিশোরী যৌন উত্তেজকভাবে উপস্থাপন করা VHS টেপও ছিল। এপস্টিন ২০০৫ সালে পুলিশি অভিযানের আগে নিজের ফ্লোরিডার বাড়ি থেকে এসব প্রমাণ সরিয়ে পেশাদার গোয়েন্দা দিয়ে লকারে স্থানান্তর করিয়েছিলেন।
লকারের গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর তালিকা
| সামগ্রী | বিবরণ | পরিমাণ / সংখ্যা |
|---|---|---|
| ঠিকানা সংবলিত খাতা | শিকার নারীদের তালিকা | ২৯টি |
| কম্পিউটার | হার্ড ড্রাইভ সহ | ৩টি |
| নগ্ন নারী ছবি | এপস্টিনের শিকারদের ছবি | বহু |
| ভিডিও ক্যাসেট | ৮-মিলিমিটার ভিডিও, গোসল ও অন্তর্বাস পরিহিত দৃশ্য | ১টি |
| নগদ অর্থ | লকারে লুকানো | ২,০০০ ডলার |
| হার্ভার্ড আইডি কার্ড | লকারে সংরক্ষিত | ১টি |
| যৌন খেলনার সামগ্রী | অন্তর্বাস ও অন্যান্য | কয়েকটি |
এছাড়া জানা গেছে, এপস্টিন প্যারিসে ১৮ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন ভাড়া করেছিলেন, যেখানে যৌন নিপীড়ন এবং মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে। অন্তত তিন নারী দাবি করেছেন, প্যারিসে এপস্টিন বা তার সহযোগীরা তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন। শিশু সুরক্ষা সংস্থা ‘ইনোসেন্স ইন ডেঞ্জার’ ফ্রান্সে এপস্টিন–সংক্রান্ত ১০টি অভিযোগ পেয়েছে, তবে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
ফ্লোরিডার লকারের মালামাল এফবিআই পরবর্তীতে দুটি কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভ উদ্ধার করলেও বাকী লকারের সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়নি। এপস্টিন এমন অন্তত আরও ছয়টি লকার ভাড়া নিয়েছিলেন। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ম্যানহাটান কারাগারে এপস্টিন আত্মহত্যা করার আগে তার কর্মীরা তথ্য মুছে ফেলার বিষয়ে আলোচনা করেছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন–সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশের পর নতুন করে দুটি তদন্ত শুরু করেছেন, যার একটি আর্থিক অপরাধ এবং অন্যটি মানব পাচার–সংক্রান্ত। এই ঘটনা প্রমাণ করে, এপস্টিনের অপরাধ কেবল মার্কিন সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিস্তৃত ছিল।
এই সংস্থাপনটি প্রকাশ করে একাধিক আন্তর্জাতিক তদন্তের দিকেও নতুন আলো ফেলেছে, যা ভবিষ্যতে এপস্টিনের সহযোগীদের অপরাধ এবং সম্ভাব্য আরও গোপন লকারের তথ্য উদঘাটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
