দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে স্বতন্ত্র তদন্ত শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও বোর্জ ব্রেন্দে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার এই খবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
নরওয়ের এই রাজনীতিক ২০১৭ সালে ডব্লিউইএফের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সাড়ে আট বছর সংস্থায় কাটানো সময় ফলপ্রসূ ও শিক্ষণীয় ছিল, তবে এখন ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য পদত্যাগই যথাযথ সময়। তবে ব্রেন্দের বিবৃতিতে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ব্রেন্দের এপস্টিনের সঙ্গে তিনটি ব্যবসায়িক ডিনার হয়েছিল। এছাড়া তারা নিয়মিত ই-মেইল ও খুদে বার্তা আদান-প্রদান করতেন। ব্রেন্দে আগে দাবি করেছিলেন, ২০১৮ সালে প্রথম সাক্ষাতের সময় এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। তিনি এ বিষয়ে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ না নেওয়ার জন্য অনুতপ্তও।
এপস্টিন ২০০৮ সালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে যৌন কাজে বাধ্য করার অপরাধে দণ্ডিত হন। ২০১৯ সালে তিনি ম্যানহাটানের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন। এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও এমনকি ব্রিটিশ রাজপরিবারও বিতর্কের মুখে পড়েছে।
ডব্লিউইএফ স্বতন্ত্র তদন্ত: মূল তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| তদন্তের মাধ্যম | সংস্থার বাইরের আইনজীবী দ্বারা পরিচালিত স্বতন্ত্র তদন্ত |
| ফলাফল | পূর্বে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে নতুন উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া যায়নি |
| পদক্ষেপ | বোর্ড অব ট্রাস্টি নতুন স্থায়ী প্রেসিডেন্ট ও সিইও খুঁজবে |
| অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব | অ্যালোইস জুইঙ্গি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন |
| ব্রেন্দের পদত্যাগ | মার্চ ২০২৬ |
| ব্রেন্দের বিবৃতি | “ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য পদত্যাগ করছি” |
ডব্লিউইএফের দুই কো-চেয়ার আন্দ্রে হফম্যান ও ল্যারি ফিঙ্ক পৃথক বিবৃতিতে জানান, ব্রেন্দের এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পরিচালিত স্বতন্ত্র তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছেন, নতুন উদ্বেগজনক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টিন-সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ইলন মাস্ক ও বিশ্বের আরও বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এ নথি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসরসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে।
ব্রেন্দের পদত্যাগ বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে ডব্লিউইএফের ভাবমূর্তি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার ওপর নতুন আলো ফেলে দিয়েছে। সংস্থা জানিয়েছে, নতুন প্রেসিডেন্ট ও সিইও নির্বাচনের প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে, এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট অ্যালোইস জুইঙ্গি দায়িত্বপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
