ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-এর প্লে-অফ পর্ব শেষ হয়েছে দারুণ নাটকীয়তায়। দুই লেগ মিলিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর চূড়ান্ত হয়েছে শেষ ষোলোয় ওঠা ১৬ দলের তালিকা। ইনজুরি টাইমের হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত থেকে অতিরিক্ত সময়ের গোলবন্যা—সব মিলিয়ে প্লে-অফ যেন ছিল রোমাঞ্চের এক পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।
সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড-এর স্বপ্ন ভেঙে দেয় আটলান্টা। দুই লেগে সমানতালে লড়াইয়ের পর নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে গোল হজম করে বিদায় নিতে হয় জার্মান প্রতিনিধিদের। অন্যদিকে ইতালির আরেক জায়ান্ট জুভেন্টাস তিন গোল করে সমতা ফেরালেও অতিরিক্ত সময়ে আর ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি। উল্টো তুরস্কের চ্যাম্পিয়ন গ্যালাতাসারাই আরও দুই গোল করে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে নিশ্চিত করে শেষ ষোলো।
প্লে-অফের শেষ দিনে নকআউট পর্বে জায়গা পাকা করে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি, আটলান্টা ও গ্যালাতাসারাই। এর আগে প্লে-অফের অন্য ম্যাচগুলো থেকে অগ্রগতি নিশ্চিত করেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ, বোদো/গ্লিমট, নিউক্যাসল ইউনাইটেড এবং বায়ার লেভারকুজেন।
অন্যদিকে গ্রুপপর্বে পয়েন্ট টেবিলের সেরা আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোয় উঠে যায় ইউরোপের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। তারা হলো—বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটি, বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, টটেনহ্যাম হটস্পার ও স্পোর্টিং সিপি।
শেষ ষোলো নিশ্চিত করা দলসমূহ
| পথ | দল |
|---|---|
| সরাসরি গ্রুপপর্ব থেকে | বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটি, বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, টটেনহ্যাম হটস্পার, স্পোর্টিং সিপি |
| প্লে-অফ জয়ী | রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি, আটলান্টা, গ্যালাতাসারাই, আতলেতিকো মাদ্রিদ, বোদো/গ্লিমট, নিউক্যাসল ইউনাইটেড, বায়ার লেভারকুজেন |
এবারের আসরে ইংল্যান্ড, স্পেন ও জার্মানির ক্লাবগুলোর আধিপত্য বিশেষভাবে চোখে পড়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে পাঁচটি দল শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে, যা প্রতিযোগিতার গভীরতা ও মানের প্রমাণ বহন করে। একইভাবে স্পেন ও জার্মানির ক্লাবগুলিও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ড্র। সেখানে নির্ধারিত হবে কোন দলের মুখোমুখি হবে কোন দল। নকআউট পর্বে হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সামান্য ভুলও বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্লে-অফের নাটকীয় সমাপ্তি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোকে এনে দিয়েছে আরও বেশি প্রতীক্ষা ও উত্তেজনা। ইউরোপসেরা হওয়ার লড়াই এখন আরও তীব্র, আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
