নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন ও প্রশাসনিক পুনর্গঠন

বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় নবনিযুক্ত দুই প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায়, গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক আদেশ জারি করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়।

প্রশাসনিক আদেশ ও দপ্তরের বিবরণ

সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব স্বাক্ষরিত এই অফিস আদেশে জানানো হয়েছে যে, নবনিযুক্ত দুই প্রতিমন্ত্রীকে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত চারটি বিভাগের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং মেগা প্রকল্পগুলোর সুচারু বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে হাবিবুর রশিদ-কে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা বিভিন্ন রেলওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ তদারকি করবেন তিনি। অন্যদিকে, মো. রাজিব আহসান-কে দেওয়া হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দেশের বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন এবং চলমান বৃহৎ সেতু প্রকল্পগুলোর তদারকিতে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন।

নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন একনজরে

প্রতিমন্ত্রীর নামপ্রাথমিক দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর/বিভাগঅতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর/বিভাগ
হাবিবুর রশিদসড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগরেলপথ মন্ত্রণালয়
মো. রাজিব আহসাননৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সেতু বিভাগ

গুরুত্ব ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের মতো স্পর্শকাতর বিভাগে নতুন এই রক্তসঞ্চার সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা। বিশেষ করে হাবিবুর রশিদের অধীনে থাকা রেলপথ মন্ত্রণালয় বর্তমানে বেশ কিছু মেগা প্রজেক্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধ করা তার জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে।

অন্যদিকে, মো. রাজিব আহসানের অধীনে থাকা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বর্তমানে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ও নদী খনন কর্মসূচির মতো জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন কাজে নিয়োজিত। সেতু বিভাগের অধীনে থাকা বিভিন্ন মেগা স্ট্রাকচারের রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন প্রকল্প গ্রহণও তার কর্মপরিধির অন্তর্ভুক্ত হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, নবনিযুক্ত এই দুই প্রতিমন্ত্রীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট

মন্ত্রিসভায় এই নতুন অন্তর্ভুক্তি সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যখন তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, তখন থেকেই জল্পনা ছিল কার ভাগ্যে কোন দপ্তর জুটছে। আজকের এই আদেশের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের যে অঙ্গীকার বর্তমান সরকার করেছে, তা বাস্তবায়নে এই দুই তরুণ ও দক্ষ নেতার অন্তর্ভুক্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সেতু বিভাগের কাজের সমন্বয় সাধন করতে এই নতুন বণ্টন ব্যবস্থা সহায়ক হবে।

সরকারের এই নতুন বিন্যাসের ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজের তদারকি আরও নিবিড় হবে এবং মন্ত্রণালয়গুলোর অভ্যন্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।