সৌদি আরবে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা

সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ (SFDA) জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও দেশীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর পাশাপাশি ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চল বা শহরের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের নামও অন্তর্ভুক্ত।

SFDA জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহামারি ও প্রাণীর সংক্রামক রোগের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। কিছু নিষেধাজ্ঞা ২০০৪ সাল থেকে কার্যকর, অন্যগুলি ধাপে ধাপে ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়েছে। বিশেষভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক রোগ যেমন এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (বার্ড ফ্লু) এবং নিউক্যাসল রোগ এর তথ্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে।

SFDA স্পষ্ট করেছে যে, নিষেধাজ্ঞা তাপ প্রক্রিয়াজাত পোলট্রি মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উপর প্রযোজ্য নয়। তবে, এসব পণ্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকারি সনদপত্র থাকতে হবে যা নিশ্চিত করবে যে পণ্য যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত এবং ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। পণ্য অবশ্যই রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত স্থাপনা থেকে উৎপাদিত হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতে কঠোর আমদানি নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সংক্রামক রোগের বিস্তার দ্রুত ঘটতে পারে এবং দেশীয় খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ ও ভারতের পোলট্রি ও ডিম রপ্তানিতে পড়তে পারে। বিশেষভাবে শীতকালীন ও বন্যায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে, এই নিয়মাবলী রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক উভয়ের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকা

ধরণদেশ/অঞ্চল (প্রধান উল্লেখযোগ্য দেশ)
সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাবাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, মায়ানমার, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, জাপান, নেপাল, ইরাক, ঘানা, ভিয়েতনাম, ইরান, তাইওয়ান, বুলগেরিয়া, বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, লিবিয়া, সার্বিয়া, কম্বোডিয়া
আংশিক নিষেধাজ্ঞাযুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, ভুটান, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, জিম্বাবুয়ে, টোগো, অস্ট্রিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র

SFDA’র এই পদক্ষেপ সাময়িক হলেও, আন্তর্জাতিক পোলট্রি রপ্তানি মানদণ্ডের নিয়মিত হালনাগাদ ও পর্যালোচনা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কঠোর নিয়ন্ত্রণ জনস্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এই নিয়মাবলী রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক উভয়ের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও দেশীয় খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে সহায়ক হবে।