কারা পাবেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’, করবেন কীভাবে আবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত অন্যতম অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গৃহীত এই উদ্যোগের আওতায় আগামী ১০ মার্চ থেকে দেশব্যাপী পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে প্রান্তিক, হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আসবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো আরও সুসংহত হবে।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৪টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত একটি উপজেলায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

পাইলট প্রকল্পের কাঠামো ও বাছাই

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে বাছাইকৃত এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোনো কার্যালয়ে বসে নয়, বরং সরাসরি মাঠপর্যায়ে যাচাইয়ের ভিত্তিতে তথ্যভান্ডার তৈরি করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পায়।

কার্ডটি মূলত পরিবারের মা বা নারীপ্রধানের নামে ইস্যু করা হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীর হাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করলে পরিবারের পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একটি কার্ডে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। তবে সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য পৃথক কার্ড দেওয়া হবে।

নিম্নে পাইলট প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো—

বিষয়বিবরণ
কার্যক্রম শুরু১০ মার্চ
পাইলট এলাকা১৪ উপজেলা, ১৪ ইউনিয়ন, ১৪ ওয়ার্ড
কার্ডের নামেপরিবারের মা বা নারীপ্রধান
সদস্যসীমাপ্রতি কার্ডে সর্বোচ্চ ৫ জন
অগ্রাধিকারপ্রাপ্তহতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবার

আর্থিক সহায়তা ও বিতরণ পদ্ধতি

কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে প্রদান করা হবে। নগদ অর্থ হাতে বিতরণের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করায় অনিয়মের সুযোগ কমবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিকভাবে থোক বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। তবে আগামী জুন মাসে প্রণীত জাতীয় বাজেটে এই খাতে নিয়মিত বরাদ্দ সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তদারকি ও তথ্যভান্ডার

কর্মসূচির স্বচ্ছতা রক্ষায় দ্বিস্তরবিশিষ্ট তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি সার্বিক তদারকি করবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি তথ্য যাচাই করবে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা হচ্ছে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা গ্রহণ করতে না পারেন।

আবেদন পদ্ধতি

বর্তমানে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলমান থাকলেও শিগগিরই নির্ধারিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আগ্রহীরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, যেমন ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয় থেকে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, সাম্প্রতিক রঙিন ছবি এবং একটি সচল মোবাইল বা ব্যাংক হিসাব নম্বর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

সরকারের মতে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ত্রুটি সংশোধন শেষে আগামী চার মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। সামাজিক সুরক্ষাবলয় সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।