শেখ কবির হোসেন: বীমা খাতের অগ্রদূত প্রয়াত

বাংলাদেশের বীমা খাতের প্রবর্তক ও অগ্রণী নেতা শেখ কবির হোসেন ১৪ ফেব্রুয়ারি হৃদয়ঘাতী অস্থিরতার পর মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন বয়সজনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

শেখ কবির হোসেন ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম ভাগ্নে হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে, পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন ও পেশাজীবনে তিনি ছিলেন সর্বদা প্রগতিশীল চিন্তার প্রতীক, যার প্রভাব দেশের বীমা ও অর্থনৈতিক খাতের উন্নয়নে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

তিনি ২০১১ সালে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)-এর সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৩ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে বীমা খাত যুগান্তকারী উন্নতি অর্জন করে। তিনি বিভিন্ন নতুন নীতি ও সংস্কার চালু করে বীমা খাতকে আধুনিক রূপ দেন। এছাড়া, তিনি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সফারইস্ট ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেখ কবির হোসেনের অবদান শুধুমাত্র বীমা খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, এবং লাইন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল-এর আন্তর্জাতিক পরিচালক পদেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্ব ও মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজের নানা স্তরে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

নিচের টেবিলে শেখ কবির হোসেনের প্রধান পদ ও দায়িত্ব সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

পদ ও প্রতিষ্ঠানদায়িত্বকাল/বিবরণ
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)২০১১-২০২৪, সভাপতি
সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সচেয়ারম্যান
ফারইস্ট ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সচেয়ারম্যান
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি বাংলাদেশচেয়ারম্যান
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিচেয়ারম্যান
লাইন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালআন্তর্জাতিক পরিচালক

শেখ কবির হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বীমা খাত আধুনিকীকরণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অগ্রগতি লাভ করে। তার প্রচেষ্টা শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজসেবা এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনেও প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশ আজ একটি জ্ঞানী ও প্রগতিশীল নেতা হারিয়েছে। শেখ কবির হোসেনের দৃষ্টিভঙ্গি, নেতৃত্ব এবং মানবিক অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর স্মৃতি ও শিক্ষা বীমা খাত এবং সমাজকল্যাণের ধারায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।