২০ বার বেঁচে যাওয়ার পর কাশ্মীরে নিহত মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী

ভারত অধ্যুষিত জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সাঁড়াশি অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের (JeM) এক শীর্ষ কমান্ডারসহ তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। গত রবিবার পরিচালিত এই অভিযানে নিহতদের মধ্যে জইশ-ই-মোহাম্মদের অন্যতম ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সদস্য সাইফুল্লাহ রয়েছেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সাইফুল্লাহর মৃত্যু ওই অঞ্চলে জঙ্গি দমনে এক বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০ বার অভিযান এড়িয়ে যাওয়া সাইফুল্লাহর পতন

নিহত সাইফুল্লাহ গত দুই বছর ধরে কিশ্তওয়ার ও এর আশেপাশের পাহাড়ি অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিনি অত্যন্ত ধুরন্ধর ছিলেন এবং অন্তত ২০ বার নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। বারবার অভিযানের মুখ থেকে বেঁচে ফেরায় তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এবার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নিখুঁত পরিকল্পনায় তাকে ঘেরাও করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী।

অভিযানের বিবরণ ও উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম

গোপন সংবাদে জানা যায় যে, কিশ্তওয়ারের চাত্রু বনাঞ্চলে সন্ত্রাসীরা একটি অস্থায়ী আস্তানা গেড়েছে। এরপর রাজ্য পুলিশ, সিআরপিএফ (CRPF) এবং সেনাবাহিনীর বিশেষ কমান্ডোরা যৌথভাবে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। নিরাপত্তা বাহিনী আস্তানার কাছে পৌঁছামাত্রই সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের এক পর্যায়ে সাইফুল্লাহসহ তার দুই সহযোগী নিহত হয়।

ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিচে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

উদ্ধারকৃত আইটেমসংখ্যা/বিবরণ
অ্যাসাল্ট রাইফেল০২টি
ম্যাগাজিন ও গুলিবিপুল পরিমাণ
কমিউনিকেশন ডিভাইসবেশ কিছু ওয়াকিটকি
অন্যান্যব্যাগ, শুকনো খাবার ও মানচিত্র

অপারেশন ত্রাশি-১ ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি

জানুয়ারি মাস থেকে কিশ্তওয়ারের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ত্রাশি-১’ পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো চাত্রু, সন্নার, দোলগাম ও দিচ্ছর বনাঞ্চলে আত্মগোপন করে থাকা সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা। গত মাসেও চাত্রু বনাঞ্চলে প্রায় অর্ধডজন বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি একই এলাকায় জইশ-ই-মোহাম্মদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আদিল নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। আদিল এবং সাইফুল্লাহর মৃত্যুর ফলে এই অঞ্চলে জঙ্গি সংগঠনটির সাংগঠনিক কাঠামো বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

কৌশলগত গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ

জম্মু ও কাশ্মীরের এই অঞ্চলগুলো অত্যন্ত দুর্গম, ঘন বন আর উঁচু পাহাড়ে ঘেরা। প্রাকৃতিক এই প্রতিবন্ধকতাকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকতে পারে। কিশ্তওয়ারে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সন্ত্রাসী হামলা ও টহলরত বাহিনীর ওপর চোরাগোপ্তা আক্রমণের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। ফলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কৌশল পরিবর্তন করে আকাশপথে নজরদারি ও স্থানীয় ইনফরমারদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।

সাইফুল্লাহর মতো একজন অভিজ্ঞ কমান্ডারের নিধন কেবল জইশ-ই-মোহাম্মদের জন্যই বড় ধাক্কা নয়, এটি সীমান্তে ওত পেতে থাকা অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর জন্যও একটি কঠোর বার্তা। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি ও টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী সীমানা পার হয়ে পালাতে না পারে।