ঢাবি ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার সকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নিকট পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।


পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত

উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রেরিত আবেদনে উপাচার্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার মূল কর্মস্থল— উন্নয়ন অধ্যয়ন (ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ) বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপক পদে ফেরার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক নিয়াজ তার এই ইচ্ছার কথা প্রথম জনসমক্ষে আনেন। সেদিন তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলেন:

“আমি মনে করি, দায়িত্ব পালনের একটি সন্তোষজনক পর্যায়ে আমরা উপনীত হয়েছি এবং এখন আমার সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময়।”

তবে প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চেইন অফ কমান্ড বজায় রাখতে তিনি নতুন সরকার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে অধ্যাপক নিয়াজের দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। মন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অধ্যাপক নিয়াজের অবদানের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে দেশের একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তার জন্য তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পদত্যাগপত্রটি গ্রহণের চূড়ান্ত এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা মহামান্য রাষ্ট্রপতির।


অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের কর্মজীবন ও শিক্ষা

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান একজন ক্ষুরধার মেধার অধিকারী শিক্ষাবিদ এবং গবেষক। ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২৭ আগস্ট তিনি উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। নিচে তার শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
জন্ম১৯৬৬ সাল
প্রাথমিক উচ্চশিক্ষাচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)
পিএইচডিইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস, সোয়ানসি, যুক্তরাজ্য (১৯৯৬)
পোস্ট-ডক্টরালঅক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয় ও এআইটি (থাইল্যান্ড)
পূর্বতন প্রশাসনিক পদউপ-উপাচার্য, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি; চেয়ারম্যান, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ (ঢাবি)
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাজাতিসংঘ (UNDP), বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) পরামর্শক

উপসংহার

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের এই পদত্যাগ কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠে সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি তার মেয়াদকালে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারকে সচল রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রশাসনিক পদে না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বৃহত্তর শিক্ষা খাতের উন্নয়নে তিনি শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। এখন সকলের দৃষ্টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের দিকে, যিনি পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করবেন।