ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রবিবার): তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী-এর সঙ্গে সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নিবন্ধিত অনলাইন সংবাদপোর্টাল মালিকদের সংগঠন অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ওনাব)-এর নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে দেশের অনলাইন গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা, নীতিমালা-সংক্রান্ত জটিলতা, নিবন্ধন ও নবায়ন প্রক্রিয়া, সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টন এবং অনিবন্ধিত পোর্টালের বিস্তারসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে ওনাব নেতারা বলেন, দ্রুতগতির তথ্যপ্রবাহের এই যুগে অনলাইন গণমাধ্যমই নাগরিকদের কাছে সর্বপ্রথম সংবাদ পৌঁছে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নির্বাচন, অর্থনীতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা—সব ক্ষেত্রেই অনলাইন পোর্টাল তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য সরবরাহ করে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখছে। তাঁরা দাবি করেন, নিবন্ধিত পোর্টালগুলো সরকার নির্ধারিত নীতিমালা মেনে পরিচালিত হলেও প্রতি বছর নিবন্ধন নবায়নের বাধ্যবাধকতা এবং উচ্চ ফি অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
ওনাব নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতি বছর নিবন্ধন নবায়নের প্রথা বাতিল বা দীর্ঘমেয়াদি করা, অনিবন্ধিত ও ভুয়া পোর্টাল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালের জন্য পৃথক নীতিমালার মাধ্যমে সরকারি বিজ্ঞাপন বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষায় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।
নিম্নে ওনাবের উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| দাবির বিষয় | প্রস্তাবিত ব্যবস্থা | প্রত্যাশিত ফলাফল |
|---|---|---|
| নিবন্ধন নবায়ন | বার্ষিক নবায়ন বাতিল বা দীর্ঘমেয়াদি নবায়ন | প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় হ্রাস |
| অনিবন্ধিত পোর্টাল | কঠোর নজরদারি ও বন্ধের উদ্যোগ | ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি কমানো |
| সরকারি বিজ্ঞাপন | নিবন্ধিত পোর্টালের জন্য নির্দিষ্ট কোটা | আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত |
| নীতিমালা সংস্কার | পৃথক ও স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন | পেশাগত মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি |
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অনলাইন গণমাধ্যম এখন মূলধারার সংবাদ পরিবেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতে চায়। তিনি আশ্বাস দেন, যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত দাবিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে একদিকে যেমন অনলাইন পোর্টালগুলো টিকে থাকতে পারে, অন্যদিকে তেমনি ভুয়া ও অপপ্রচারমূলক সাইটগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওনাবের আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল মজুমদার, সদস্য সচিব শাহীন চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক লতিফুল বারী হামীম, নির্বাহী সদস্য আশরাফুল কবির আসিফ, মহসিন হোসেন ও অয়ন আহমেদসহ সংগঠনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, সরকার ও অনলাইন গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বিত সংলাপ অব্যাহত থাকলে ডিজিটাল সংবাদখাত আরও সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং স্বচ্ছ বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়ন করা গেলে অনলাইন সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন ঘটবে এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সংবাদব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি টেকসই ও জবাবদিহিমূলক অনলাইন গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে।
