রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এই দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আমুর অঞ্চলের প্রশাসনের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগের দিন রাডার থেকে নিখোঁজ হওয়া ‘রবিনসন’ ব্র্যান্ডের হেলিকপ্টারটি রোমনেনস্কি জেলার দুর্গম ও ঘন বনভূমির মধ্যে বিধ্বস্ত হয়। উদ্ধারকারী দল শনিবার ধ্বংসাবশেষের মধ্যে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় কোনো আরোহী বেঁচে থাকেনি। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে অভিযান পরিচালনা করেছে।
প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি আননিবন্ধিত ছিল এবং পাইলটের কাছে প্রয়োজনীয় লাইসেন্সও ছিল না। নিহত পাইলটই উড়োজাহাজের একমাত্র মালিক ছিলেন। প্রশাসনের অনুমান, বৈধ নিবন্ধন ও লাইসেন্সের অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অজানা। তবে প্রশাসনিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং পাইলটের অভিজ্ঞতার অভাব মূল সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা দুর্গম এলাকায় কঠোর শারীরিক ও আবহাওয়াগত ঝুঁকি সত্ত্বেও ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন।
স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বেসরকারি উড্ডয়ন সংক্রান্ত নিয়মকানুন কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বার্তা প্রদান করা হচ্ছে।
নিচের টেবিলে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তথ্য বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | রোমনেনস্কি জেলা, আমুর অঞ্চল, রাশিয়া |
| দুর্ঘটনার তারিখ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| আকাশযান ব্র্যান্ড | রবিনসন (বেসরকারি হেলিকপ্টার) |
| আরোহী সংখ্যা | ৩ জন |
| মৃতদেহ উদ্ধার | ৩ জন |
| হেলিকপ্টার নিবন্ধন | আননিবন্ধিত (সংকল্পিত) |
| পাইলট লাইসেন্স | নেই |
| দুর্ঘটনার কারণ | প্রাথমিকভাবে অজানা, তদন্ত চলছে |
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুর্গম অঞ্চল, খাড়া পাহাড়ি পথ এবং কঠোর আবহাওয়ার মধ্যেও ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহ দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণ ও নিরাপত্তা সংস্থার কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং আকাশপথে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতে বেসরকারি উড্ডয়ন সঠিকভাবে নিবন্ধন ও লাইসেন্সসহ পরিচালিত হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।
