বগুড়ার নন্দীগ্রামে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
এটিএম মুজাহিদ, নন্দীগ্রাম পৌর জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক
রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক
নির্বাচনী সহিংসতার পটভূমি
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে নির্বাচনের আগে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় বিএনপির মাঝগ্রাম ইউনিয়ন সভাপতি মাসুদ রানা মজিদসহ কমপক্ষে পাঁচ জন গুরুতর আহত হন। সঙ্গে কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের শিকার হয়। আহতরা নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নিম্নরূপ:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা | কমপক্ষে ৫ জন গুরুতর আহত |
| মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামি | ৩৫ জন |
| গ্রেপ্তারকৃত নেতারা | এটিএম মুজাহিদ, রাকিবুল ইসলাম |
| সংঘটিত স্থান | পারশুন গ্রাম, থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন |
| ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি | কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর |
পুলিশি অভিযান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মামলার পর থেকে বেশিরভাগ আসামি পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার অভিযান চালিয়ে মুজাহিদ ও রাকিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান এখনও চলমান।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের সঙ্গে পূর্বে কয়েকটি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বন করছে যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো যায়।
নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা প্রশাসন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “আইনের শাসন বজায় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনের সময় যে কোনো ধরনের সহিংসতা আমরা সহ্য করব না।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর থেকে নন্দীগ্রাম এলাকার রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা এবং প্রভাবশালী নেতাদের গ্রেপ্তারের ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তারা বলেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনের আগে এ ধরনের সহিংসতা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেপ্তার অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
