ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত, বেহকা উপত্যকায় মৃত্যু ১২

ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় লেবাননের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত বারোজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উচ্চপদস্থ হিজবুল্লাহ কমান্ডারও রয়েছেন। হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন, যার মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, এই বিমান হামলা হিজবুল্লাহ এবং তাদের ফিলিস্তিনীয় মিত্র হামাসকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।

মৃত্যুবরণ ও আঘাতপ্রাপ্তের বিস্তৃতি

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেহকা উপত্যকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছেন। একই অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিবেদনে মৃত ও আহতের সংখ্যা সামান্য পার্থক্য দেখা গেছে, যা সংঘাত অঞ্চলে তথ্য যাচাইয়ের জটিলতা তুলে ধরে।

একইসাথে, হামলার একটি অংশ লেবাননের বৃহত্তম ফিলিস্তিনীয় শরণার্থী শিবিরগুলোর একটিকে লক্ষ্য করেছে। ইসরায়েলি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিবিরে হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের অবকাঠামো।

নিচের টেবিলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিমান হামলার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

এলাকানিহতআহতঅতিরিক্ত তথ্য
বেহকা উপত্যকা১০২৪নিহতদের মধ্যে তিন শিশু
দক্ষিণ লেবানন২৫স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে
ফিলিস্তিনীয় শরণার্থী শিবিরঅজানাহামাসের সুবিধাসমূহকে লক্ষ্য করে হামলা

হিজবুল্লাহ নিশ্চিত করেছে যে, বেহকা উপত্যকার বিমান হামলায় তাদের একজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযান লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর কমান্ড কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।

প্রেক্ষাপট

লেবানন ও ইসরায়েলের সম্পর্ক ২০১৪ সাল থেকে উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে, যেখানে মাঝে মাঝে সহিংসতা ঘটেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একবছরের সংঘাত শেষে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল সীমিত এলাকা লক্ষ্য করে সময়ে সময়ে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার কারণে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক বিমান হামলা হিজবুল্লাহ ও হামাসের কর্মকাণ্ড সীমিত করার প্রচেষ্টা। তবে পুনরাবৃত্ত হামলা সিভিলিয়ানদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননে স্থিতিশীলতা আরও ভঙ্গুর করে তুলতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ সকল পক্ষকে উত্তেজনা কমাতে এবং লেবাননে শান্তি বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয়রা হামলার সময় ভীতির অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন, যা সেগুলোর আশেপাশের জনজীবনে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, চলমান সামরিক কার্যক্রম পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলে ব্যাপক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

এই হামলার ফলে লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে শিশু, নারী এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।