২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবসের প্রাক্কালে বরিশাল-২ (যার মধ্যে সারাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলা অন্তর্ভুক্ত) এলাকার সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শহিদ মিনারে ফুল অর্পণ করার চেষ্টা করার সময় একটি উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা ঘটে মধ্যরাতে, সারাইল উপজেলা শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনসাধারণের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য অনুযায়ী, ব্যারিস্টার ফারহানা রাত প্রায় ১১:৫০ মিনিটে মিনারে পৌঁছান, সঙ্গে কয়েক শতাধিক সমর্থক। সমর্থকরা তাদের স্বাগত জানিয়ে হাততালি ও রাজনৈতিক স্লোগান দেন। রাত ১২:০১ মিনিটে যখন তিনি ফুল অর্পণের জন্য মিনারের কাছে যান, তখন স্থানীয় বিএনপির প্রাক্তন জেলা সচিব ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ আনোয়ার হোসেন মাস্টার উপস্থিত হন। উভয় পক্ষের আকস্মিক মিলনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে সংঘর্ষ ঘটে। কিছু ব্যক্তি মিনারে চড়ে ফুল সরিয়ে নেয় এবং স্লোগান দিতে থাকে।
ব্যারিস্টার ফারহানা ঘটনাস্থল থেকে মন্তব্য করেন, “কিছু বিএনপি নেতা ও কর্মী আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে এবং আমাকে ঠেলে সরানোর চেষ্টা করেছে। ১৭ বছর পর তারা ক্ষমতায় ফিরলেও, যদি স্থানীয় দলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে ফলাফল মারাত্মক হতে পারে। নতুন সরকার হিসেবে আমি আশা করি তারা নিজেদের অশৃঙ্খল সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, ফারহানার সমর্থকরা রাত ১২:৩০ মিনিটে শাহবাজপুরে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা টায়ার জ্বালিয়ে এবং লাঠি হাতে অবস্থান গ্রহণ করে প্রায় এক ঘন্টা যানজট সৃষ্টি করেন। স্থানীয় পুলিশ রাত ১:০০ টার দিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং অবরোধ শেষ হয়।
ঘটনার সময়রেখা নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| সময় | ঘটনা | স্থান | মূল ব্যক্তি/দল |
|---|---|---|---|
| ১১:৫০ পি.এম | ব্যারিস্টার ফারহানা পৌঁছান | সারাইল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার | রুমিন ফারহানা, সমর্থকগণ |
| ১২:০১ এ.এম | ফুল অর্পণের সময় উত্তেজনা | শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ | রুমিন ফারহানা, আনোয়ার হোসেন মাস্টার, উভয় পক্ষের কর্মী |
| ১২:৩০ এ.এম | মহাসড়ক অবরোধ শুরু | ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক, শাহবাজপুর | রুমিন ফারহানার সমর্থক |
| ১:০০ এ.এম | পুলিশ আশ্বাস ও অবরোধের সমাপ্তি | শাহবাজপুর | স্থানীয় পুলিশ |
স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার বিষয়টি পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়েছে। এই সংঘর্ষের পর এলাকা জুড়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফুল অর্পণ একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হলেও, রাজনৈতিক সংঘর্ষের সঙ্গে এর সংযোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হচ্ছে, কারণ এটি দেখাচ্ছে যে অনুষ্ঠানিক ক্রিয়াকলাপ এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সুক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
