বিশ্বসংগীতের আকাশে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে উজ্জ্বল যে নক্ষত্রটির উদয় হয়েছে, তিনি অলিভিয়া রদ্রিগো। আজ ২০ ফেব্রুয়ারি, এই মার্কিন পপ কন্যার জন্মদিন। ২৩ বছরে পা দেওয়া এই তরুণী আজ কেবল একজন গায়িকা নন, বরং গোটা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের আবেগ ও অনুভূতির এক সার্থক কণ্ঠস্বর। ডায়েরির পাতায় জমানো ব্যক্তিগত অভিমানকে সুরের মূর্ছনায় বিশ্বজনীন করে তোলার এক জাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। ডিজনি চ্যানেলের পরিচিত মুখ থেকে রাতারাতি গ্লোবাল পপ আইকন হয়ে ওঠার এই সফরটি ছিল যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি অনুপ্রেরণামূলক।
Table of Contents
ডিজনি প্লাস থেকে সংগীতের আঙিনায়
অলিভিয়ার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল অভিনয় দিয়ে। ডিজনির ‘বিজারভার্ক’ ধারাবাহিকে প্রথম নজর কাড়েন তিনি। তবে তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে পৌঁছায় ডিজনি প্লাসের ‘হাই স্কুল মিউজিক্যাল: দ্য মিউজিক্যাল: দ্য সিরিজ’-এ নিনি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। অভিনয়ের এই দক্ষতা তাঁর সংগীত ক্যারিয়ারেও এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। যখন তিনি স্টুডিওতে গান রেকর্ড করেন, তখন প্রতিটি শব্দকে তিনি কেবল উচ্চারণ করেন না, বরং অভিনয়ের মাধ্যমে সেই আবেগকে জীবন্ত করে তোলেন। তাঁর প্রযোজক ড্যানিয়েল নিগ্রোর মতে, অলিভিয়ার গানের ভেতরে যে নাটকীয়তা ও গভীরতা পাওয়া যায়, তার মূলে রয়েছে ক্যামেরার সামনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।
‘ড্রাইভার্স লাইসেন্স’ এবং বিশ্বরেকর্ডের সমীকরণ
২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তি পায় অলিভিয়ার প্রথম একক গান ‘ড্রাইভার্স লাইসেন্স’। পিয়ানোর মৃদু সুর আর কিশোরী মনের ভাঙা হৃদয়ের আর্তনাদ যেন বিশ্বজুড়ে এক অদ্ভুত আলোড়ন তৈরি করে। গানটি প্রকাশের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় স্পটিফাই এবং বিলবোর্ডের সব রেকর্ড তছনছ করে দেয়। এটি ছিল কোনো বড় ধরনের প্রচারণা ছাড়াই একটি ডিজিটাল বিপ্লব।
নিচে অলিভিয়া রদ্রিগোর ক্যারিয়ারের প্রধান মাইলফলকগুলো একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| জন্মদিন | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ |
| প্রথম একক গান | ড্রাইভার্স লাইসেন্স (৮ জানুয়ারি ২০২১) |
| প্রথম অ্যালবাম | সাওয়ার (SOUR) – ২১ মে ২০২১ |
| উল্লেখযোগ্য পুরস্কার | ৩টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস (২০২২) |
| রেকর্ড | স্পটিফাইয়ে দ্রুততম ১০০ মিলিয়ন স্ট্রিম (ড্রাইভার্স লাইসেন্স) |
| প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব | টেইলর সুইফট, লর্ডে, গেন স্টেফানি |
ব্যক্তিগত সততা ও সংগীতে ‘জেন-জি’ প্রভাব
অলিভিয়ার গানগুলো কেন এত জনপ্রিয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাঁর লেখনীর সততায়। তিনি যখন গান লেখেন, তখন সেখানে কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। ‘সাওয়ার’ অ্যালবামে তিনি তাঁর রাগ, ক্ষোভ, অনিরাপত্তা এবং ঈর্ষাকে কোনো রাখঢাক ছাড়াই প্রকাশ করেছেন। তাঁর গানে ফুটে ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অস্থিরতা, স্কুলজীবনের একাকীত্ব আর প্রথম প্রেম ভাঙার নিদারুণ যন্ত্রণা। অনেক সমালোচক তাঁর গানের ব্রিজ অংশের শক্তিকে টেইলর সুইফটের লিখনশৈলীর সাথে তুলনা করেন। অলিভিয়া নিজেও নিজেকে একজন গর্বিত ‘সুইফটি’ হিসেবে পরিচয় দেন। তবে অনুপ্রেরণা নিলেও তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র সংগীতশৈলী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা পপ এবং পাঙ্ক-রক ঘরানার এক অনবদ্য সংমিশ্রণ।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সামাজিক সচেতনতা
মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনটি গ্র্যামি জিতে নিয়ে অলিভিয়া প্রমাণ করেছেন তিনি কেবল ‘এক গানেই শেষ’ হয়ে যাওয়ার মতো শিল্পী নন। তাঁর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘গাটস’ (GUTS)-ও বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। সংগীতের পাশাপাশি তিনি টেকসই ফ্যাশন ও পরিবেশ সচেতনতা নিয়েও কাজ করছেন। কিশোরী বয়সের ডায়েরি থেকে শুরু হওয়া সেই ব্যক্তিগত কথাগুলো আজ কোটি কোটি তরুণের মনের কথা হয়ে উঠেছে।
ডিজিটাল যুগে কীভাবে নিখাদ আবেগ আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বজয় করা যায়, অলিভিয়া রদ্রিগো তার এক জীবন্ত উদাহরণ। আগামী দিনগুলোতে তিনি যে পপ দুনিয়ায় আরও দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যাবেন, তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
