অস্ট্রেলিয়া কি আগে কখনও এমন ম্যাচ খেলেছে?

রাত সাড়ে ১২টায় একটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখার জন্য বসা—সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের যন্ত্রণার বিষয়। বিশেষ করে পরদিন অফিস বা কাজ থাকলে, কাজ-ঘুমের নিয়ম মেনে চলা মানুষদের জন্য মধ্যরাতে চার ঘণ্টা জেগে থাকা সহজ নয়। আর যদি সেই ম্যাচটি হয় অতি গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং রোমাঞ্চহীন ও আনুষ্ঠানিক—তাহলে উভয় দিকের চাপেই পড়তে হয় দর্শককে।

আজ ঠিক সেই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীরা। শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচ, যেখানে অস্ট্রেলিয়া খেলবে ওমানের বিপক্ষে। খেলা শুরু হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। তবে অস্ট্রেলিয়ায় তখন ঘড়ির কাঁটা দেখাবে সাড়ে ১২টা মধ্যরাত।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাচটি শূন্য ফলাফলের। কারণ, মিচেল মার্শের নেতৃত্বাধীন দল আগেভাগেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত করেছে। এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া অংশ নিয়েছে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা শ্রীলঙ্কায় গ্রুপ ম্যাচ খেললেও, জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কার কাছে হারের কারণে কলম্বো থেকে দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপ পর্বের ফলাফলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

তারিখপ্রতিপক্ষফলাফলমন্তব্য
14 ফেব্রুয়ারিআয়ারল্যান্ডজয় (৬৭ রানে)শক্তিশালী শুরু
16 ফেব্রুয়ারিজিম্বাবুয়েহার (২৩ রানে)বিপদের সংকেত
18 ফেব্রুয়ারিশ্রীলঙ্কাহার (৮ উইকেটে)সুপার এইটের আশা শেষ
20 ফেব্রুয়ারিওমানফাইনাল গ্রুপ ম্যাচআনুষ্ঠানিকতা মাত্র

অস্ট্রেলিয়ার এই বিদায় নতুন নয়। ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রিকি পন্টিংয়ের দলও প্রথম রাউন্ডে শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল। তবে এবারের গ্রুপে পাঁচটি দল থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন ছিল। প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েও পরবর্তী দুই ম্যাচে হারের পর অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ থেকে বাদ পড়ার পথে চলে আসে।

বিশেষত্ব হলো, অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টিতে কখনো সহযোগী দেশের বিপক্ষে হারেনি। ২০২৪ সালের আসরে ওমানকে ৩৯ রানে হারিয়েছিল মার্শের দল। তাই ফেভারিট অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এবার দলটি আত্মবিশ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত। যারা বিশ্বকাপ ফাইনালের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে খেলতে এসেছে, তারা গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিচ্ছে।

অতীতের অর্জন বা সাম্প্রতিক শিরোপা (২০২৩ বিশ্বকাপে ভারত থেকে জয়) সত্ত্বেও, এবারের দলকে শুধু শেষ ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতার জন্য খেলতে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি এক অস্বস্তিকর মূহূর্ত—যেখানে রোমাঞ্চ নেই, শুধু শোক ও হতাশা আছে।

এবারের ম্যাচ শুধুই একটি আনুষ্ঠানিকতা, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি নতুন ‘অসাধারণ কিন্তু হোঁচটের’ অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হবে।