ব্যর্থতার বৃত্তে বিশ্বসেরা ব্যাটার: অভিষেকের কৌশলে আমিরের প্রশ্ন

বর্তমান ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণ টি-টোয়েন্টিতে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ব্যাটার অভিষেক শর্মা এখন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বড় প্রত্যাশা নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে এসে তিনি রান-খরার এক চরম উদাহরণ তৈরি করেছেন। বিশ্বকাপের আসরে টানা তিন ম্যাচে ‘ডাক’ বা শূন্য রানে আউট হওয়ার লজ্জাজনক এক রেকর্ড গড়েছেন এই তরুণ তারকা। তার এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে এবার সরব হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা পেসার মোহাম্মদ আমির। তিনি অভিষেকের ব্যাটিংয়ের মৌলিক দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলের অভাব নিয়ে করা সমালোচনা করেছেন।

টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থতার চিত্র

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চে একজন ওপেনারের এমন পারফরম্যান্স দলের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিচে অভিষেকের শেষ তিন ম্যাচের পারফরম্যান্সের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

প্রতিপক্ষ দলআউটের ধরনবোলাররান সংখ্যা
আয়ারল্যান্ডউইকেটের পেছনে ক্যাচজশ লিটল
পাকিস্তানক্যাচ আউট (শারীরিক লক্ষ্য করে আসা বল)সালমান আগা
নেদারল্যান্ডসস্লটে বল না পেয়ে ভুল শটলোগান ফন বিক

আমিরের কড়া সমালোচনা ও টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ

পাকিস্তানের জনপ্রিয় একটি টক শো-তে মোহাম্মদ আমির অভিষেকের ব্যাটিং ধরণ নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করেন। আমিরের মতে, অভিষেককে কেবল একজন ‘স্লগার’ (যিনি সজোরে ব্যাটে বল লাগিয়ে বাউন্ডারি পার করতে চান) হিসেবেই মনে হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি যতটুকু দেখেছি, ওকে আমার স্রেফ একজন স্লগার মনে হয়েছে। আমার মনে হয় না ওর টেকনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য খুব একটা জুতসই।”

আমির আরও যোগ করেন যে, অভিষেক সবসময় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে এবং প্রতিটি বল নিজের পছন্দের ‘স্লটে’ বা প্রিয় জোনে প্রত্যাশা করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বোলাররা কখনওই ব্যাটারের শক্তির জায়গায় বল করেন না। বরং তারা ব্যাটারকে অস্বস্তিতে ফেলার জন্য অফ-স্টাম্পের বাইরে বা শরীরের খুব কাছাকাছি বল করেন। বড় টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে কেবল সজোরে ব্যাট ঘোরানো যথেষ্ট নয়, বরং উইকেটের চারদিকে খেলার দক্ষতা থাকা জরুরি।

সাইম আইয়ুবের উদাহরণের সাথে তুলনা

অভিষেকের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে আমির পাকিস্তানের তরুণ ওপেনার সাইম আইয়ুবের তুলনা করেছেন। তিনি জানান, পিএসএলে (পাকিস্তান সুপার লিগ) যখন সাইম প্রথম খেলতে আসেন, তিনিও একই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সাইমেরও বেশির ভাগ শট ছিল লেগ সাইডে এবং তিনিও ‘নো-লুক’ শটের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। আমির বলেন, “যখন বোলাররা সাইমের দুর্বলতা ধরে ফেলল এবং ফোর্থ বা ফিফথ স্টাম্পে বল করতে শুরু করল, তখন সে আর সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না কী করবে। এবারের বিশ্বকাপেও সাইম একইভাবে আউট হয়েছে।”

আমিরের মতে, অভিষেক শর্মাও এখন সেই একই জালে আটকা পড়েছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানি বোলার সালমান আগা যখন তার শরীরের ওপর বল রেখে তাকে কুপোকাত করেছিলেন, তখন তার টেকনিকের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমিরের এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘস্থায়ী হতে চাওয়া যে কোনো তরুণ ব্যাটসম্যানের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।