বৈশ্বিক সংঘাত ও প্রতিবাদের সুরে ইউ টু-র ইপি

বিশ্ববিখ্যাত আইরিশ রক ব্যান্ড ‘ইউ টু’ (U2) তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ চমকপ্রদভাবে প্রকাশ করেছে নতুন এক্সটেন্ডেড প্লে (ইপি) ‘ডেজ অব অ্যাশ’। কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা বা প্রচারণা ছাড়াই গত বুধবার আকস্মিকভাবে এই নতুন কাজটি জনসমক্ষে আনে ব্যান্ডটি। গত কয়েক বছরের বৈশ্বিক অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং মানবিক সংকটের প্রতিফলন ঘটেছে এই ইপির প্রতিটি গানে। মূলত প্রতিবাদী চেতনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সংকলনে মোট ছয়টি গান স্থান পেয়েছে, যা বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইপির মূল বিষয়বস্তু ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

২০১৭ সালে তাদের সর্বশেষ স্টুডিও অ্যালবাম ‘সংস অব এক্সপেরিয়েন্স’ প্রকাশের পর থেকে ভক্তরা নতুন কিছুর অপেক্ষায় ছিলেন। ‘ডেজ অব অ্যাশ’ কেবল কিছু গানের সংকলন নয়, বরং এটি সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের এক জীবন্ত দলিল। এই ইপিতে ব্যান্ডটি এমন কিছু বিষয়কে স্পর্শ করেছে যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

ব্যান্ডের প্রধান শিল্পী বোনো জানান, এই ইপির গানগুলোতে মূলত বর্তমান পৃথিবীর হতাশা ও বিলাপ উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “এগুলো প্রতিবাদ এবং দুঃখের গান। বর্তমান সময়ের যে অস্থিরতা, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে আমরা আশাবাদী এবং উদ্‌যাপনের গান নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি, যা খুব শীঘ্রই ভক্তরা শুনতে পাবেন।”

সংগীতের মাধ্যমে প্রতিবাদ: প্রধান গানগুলো

ইপিটির সবচেয়ে আলোচিত ট্র্যাক হলো ‘আমেরিকান অবিচুয়ারি’। চার মিনিট দৈর্ঘ্যের এই গানটি উৎসর্গ করা হয়েছে রেনি গুডকে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের একজন এজেন্টের গুলিতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছিলেন। গানের কথায় এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এছাড়া ইজরায়েলি কবি ইয়েহুদা আমিখাইয়ের কালজয়ী কবিতা ‘ওয়াইল্ডপিস’-এর সংগীতায়ন করা হয়েছে এই অ্যালবামে।

‘ডেজ অব অ্যাশ’ ইপির গান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ:

গানের নামবিষয়বস্তু বা বিশেষত্বঅংশগ্রহণকারী শিল্পী/তথ্য
আমেরিকান অবিচুয়ারিবিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রতিবাদ।রেনি গুড-এর প্রতি উৎসর্গকৃত।
ওয়াইল্ডপিসশান্তির জন্য আকুতি।ইয়েহুদা আমিখাইয়ের কবিতার সুরারোপ।
ইয়োরস ইটারনালিভ্রাতৃত্ব ও সংহতি।এড শিরান ও তারাস তোপোলিয়া।
গাজাফিলিস্তিন ও মানবিক বিপর্যয়।আঞ্চলিক সংঘাতের চিত্রায়ন।
রিভার অব টিয়ার্সইউক্রেন ও ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি।যুদ্ধ ও নারী অধিকারের লড়াই।
অ্যাশেসধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠার আহ্বান।ইপির নামলিপি বা টাইটেল ট্র্যাক।

বিশেষ সহযোগিতা ও মানবিক উদ্যোগ

ইপিটির অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘ইয়োরস ইটারনালি’ গানটি। এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত পপ তারকা এড শিরান। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, এতে যুক্ত হয়েছেন ইউক্রেনের রক তারকা তারাস তোপোলিয়া, যিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছেন। গানটিতে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং মানবতার জয়গান গাওয়া হয়েছে।

ব্যান্ডের বেজ গিটারিস্ট অ্যাডাম ক্লেইটন এই কাজ নিয়ে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এই গানগুলো আমাদের হৃদয়ের খুব কাছের। মনে হচ্ছে এগুলো একদম সঠিক সময়ে পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছেছে।” উল্লেখ্য যে, এই ইপির প্রচার ও প্রসারের সাথে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ইউএনএইচসিআর-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে আয়ের একটি বড় অংশ শরণার্থী ও নির্যাতিতদের সেবায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে ব্যান্ডের।