কাঁচপুর, সোনারগাঁও উপজেলার রাইয়ারটেক এলাকায় এক শকিং ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মোবাইল চুরির সন্দেহে সংঘর্ষের সময় পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা একজন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশকে সোপর্দ করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত মতে, ঘটনাটি ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার মধ্যরাতের সময় পারটেক্স খেলার মাঠে ঘটেছে। জানা যায়, নিরব মিয়ার মোবাইল ফোনটি হঠাৎ খেলার মাঠ থেকে হারিয়ে যায় এবং সন্দেহের নিশানা হয় ২১ বছর বয়সী আমিন মিয়া।
ঘটনার পর নিরব মিয়া ও তার চারজন পরিচিতি সঙ্গে নিয়ে মোবাইলটি ফিরে পাওয়ার জন্য আমিন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে আমিন ফোনটি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তাদের খেলার মাঠে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সেখানে কথার কাটাকাটি দ্রুত সহিংস আক্রমণে পরিণত হয়। আমিন ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে পাঁচজনকে আঘাত করে। আহতরা হলেন: নিরব মিয়া, মোঃ সুজন, কাওসার মিয়া, সোহান ও চঞ্চল।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান, আহতদের উদ্ধার করে এবং আক্রমণকারীকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেন। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে পাঁচজনের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
ঘটনার পর নিরব মিয়ার খালা শিউলি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সোনারগাঁও থানা অফিসে। অফিসার ইনচার্জ মোহিবুল্লাহ নিশ্চিত করেছেন যে সন্দেহভাজন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন। তিনি বলেন, “মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণের পর অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আহত ব্যক্তিদের তথ্যসমূহ
| নাম | আনুমানিক বয়স | ঠিকানা | অবস্থান |
|---|---|---|---|
| নিরব মিয়া | ২৩ | রাইয়ারটেক, কাঁচপুর | সংকটাপন্ন |
| মোঃ সুজন | ২১ | রাইয়ারটেক, কাঁচপুর | সংকটাপন্ন |
| কাওসার মিয়া | ২৪ | রাইয়ারটেক, কাঁচপুর | স্থিতিশীল |
| সোহান | ২২ | রাইয়ারটেক, কাঁচপুর | স্থিতিশীল |
| চঞ্চল | ২০ | রাইয়ারটেক, কাঁচপুর | স্থিতিশীল |
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবীরা জনগণকে শক্তভাবে সতর্ক করেছেন যে, চুরি বা অন্য কোনো সন্দেহজনক ঘটনার ক্ষেত্রে সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। আইনগত পথে সমস্যার সমাধান করার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা কাঁচপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং মোবাইল চুরির সঙ্গে জড়িত উত্তেজনার প্রমাণ দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো reassuring বার্তা দিয়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আহতরা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন।
