পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে শুরু হয়েছে প্রশাসনের ব্যাপক তদারকি অভিযান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বাজার নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দেন।
সূত্র জানায়, সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউএনও কাজিপুর উপজেলার সীমান্তবাজার, সোনামুখী আলমপুর বাজার এবং লক্ষ্মীপুর বাজারে উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে তিনি ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেন যেন নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হয়, কোনোভাবেই অতিরিক্ত দাম না নেওয়া হয় এবং পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত থাকে।
বাজার পরিদর্শনের সময় ফুটপাত এবং বাজারের অবৈধ স্থাপনার মধ্যে কয়েকটি উচ্ছেদ করা হয়। বাকি স্থাপনার মালিকদের নিজ দায়িত্বে তা সরানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ইউএনও সতর্ক করেছেন যে, পরবর্তী অভিযানকালে যদি এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে অব্যবস্থাপনা দেখা যায়, তবে প্রশাসন তা গুঁড়িয়ে দেবে।
বাজার পরিদর্শনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বাজারের নাম | সময়কাল | কার্যক্রম | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সীমান্তবাজার | সকাল ১০–১২টা | ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা, মূল্য তালিকা তোলা | অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়েছে |
| সোনামুখী আলমপুর বাজার | সকাল ১০–১২টা | পণ্যের সরবরাহ ও দাম পর্যবেক্ষণ | স্থাপনা উচ্ছেদ নির্দেশ |
| লক্ষ্মীপুর বাজার | সকাল ১০–১২টা | বাজার দখলমুক্তি ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ | পরবর্তী অভিযান কঠোর হবে |
স্থানীয় ক্রেতারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, মাঝে মাঝে বাজারে তদারকি করলে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং রমজানের সময় জনগণ স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারবে।
বাজার তদারকির শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রমজান মাসে কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা গ্রহণ বরদাশত করা হবে না। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কেউ অনিয়ম করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযানে ইউএনও’র সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা জাহান সুমাইয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দিদারুল আহসান, সাংবাদিকরা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এই অভিযান পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য হলো রমজানের সময়ে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখা, ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কেনাকাটার জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা। প্রশাসন আশা করছে, নিয়মিত তদারকি ও বাজার শৃঙ্খলার ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে।
