উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট উত্তেজনায় লিসবনের দা লুজ স্টেডিয়ামে ফিরে তিন সপ্তাহ আগের পরাজয়ের জবাব দিয়েছে Real Madrid। শেষ ষোলোর প্লে-অফের প্রথম লেগে স্বাগতিক Benfica-কে ১-০ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ে জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। গত মাসে একই ভেন্যুতে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ৪-২ গোলে হেরে প্লে-অফে নামতে হয়েছিল রিয়ালকে; সেই আক্ষেপ মুছে দিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণভাগে আধিপত্য দেখায় রিয়াল। ১৯তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের বাঁকানো শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ৪০তম মিনিটে গোলমুখে প্রায় নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাঝখানে ২৪তম মিনিটে বেনফিকার ফ্রেডরিকের শট দিক বদলে জালে ঢুকে পড়ার আগে অসাধারণ রিফ্লেক্সে ঠেকান থিবো কোর্তোয়া।
ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ৫০তম মিনিটে। এমবাপ্পের পাস ধরে বক্সে ঢুকে দূরের পোস্ট দিয়ে নিখুঁত ফিনিশে জাল কাঁপান ভিনিসিয়ুস। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর ৩১তম গোল। এ গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে আসেন তিনি, কাকাকে (৩০) ছাড়িয়ে; শীর্ষে আছেন নেইমার (৪৩)।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্রাজিলিয়ানদের গোলসংখ্যা
| খেলোয়াড় | গোল |
|---|---|
| নেইমার | ৪৩ |
| ভিনিসিয়ুস জুনিয়র | ৩১ |
| কাকা | ৩০ |
গোল উদ্যাপনের সময় গ্যালারির দিকে ইঙ্গিত করায় উত্তেজনা তৈরি হয়। রেফারি হলুদ কার্ড দেখালে ভিনিসিয়ুস ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ইয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নিকে নিয়ে অভিযোগ তোলেন। খেলা প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে। বেনফিকা কোচ হিসেবে দায়িত্বে থাকা Jose Mourinho ডাগআউট থেকে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পরে রেফারির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি।
শেষ দিকে বেনফিকা আক্রমণের ধার বাড়ালেও সমতা ফেরাতে পারেনি। আগামী সপ্তাহে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হবে দুই দল।
অন্য ম্যাচে, Paris Saint-Germain ৩-২ গোলে হারিয়েছে AS Monaco-কে। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ায় পিএসজি। জার্মানিতে Borussia Dortmund ২-০ গোলে হারিয়েছে Atalanta-কে। আর তুরস্কে Juventus ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে Galatasaray-এর কাছে। ৬৭তম মিনিটে জুয়ান কাবালের লাল কার্ড জুভেন্টাসের পতন ত্বরান্বিত করে।
প্রথম লেগ শেষে রিয়াল, পিএসজি ও ডর্টমুন্ড সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও দ্বিতীয় লেগে নাটকীয়তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে প্রতিটি গোলই যে ভাগ্য বদলে দিতে পারে—লিসবনের রাত তারই প্রমাণ।
