নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ ও সুবিধা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নতুন সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, কারণ সংসদ ও স্পিকার এখনও গঠিত হয়নি। সাধারণত শপথ গ্রহণের দায়িত্ব জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের, তবে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব নেন।

শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান বেলা পৌনে ১১টার দিকে শুরু হয়। প্রথমে বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেন। এর পরে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ও অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। সাধারণত নির্বাচনের সরকারি ফলাফল প্রকাশ বা গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

সংসদ সদস্যদের সুবিধা ও ভাতা

বাংলাদেশে একজন সংসদ সদস্যকে শুধু আইন প্রণয়ের ক্ষমতা প্রদান করা হয় না, বরং নানা ধরণের ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারি সুবিধা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জন্য এ সুবিধাগুলো নিম্নরূপ:

সুবিধা/ভাতাপরিমাণ (BDT)বিবরণ
মাসিক বেতন55,000নিয়মিত বেতন
নির্বাচনী এলাকা ভাতা12,500জেলা ও উপজেলা উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য
সম্মানী ভাতা5,000সাধারণ সম্মানী
শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধাব্যক্তিগত গাড়ি আমদানি করা যায়
মাসিক পরিবহন ভাতা70,000গাড়ি ও অন্যান্য পরিবহন খরচ
নির্বাচনী এলাকার অফিস খরচ15,000অফিস পরিচালনা ও স্থানীয় কাজের জন্য
লন্ড্রি ভাতা1,500মাসিক খরচের জন্য
ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ6,000দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য
বার্ষিক ভ্রমণ খরচ120,000দেশের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ খরচ
স্বেচ্ছাধীন তহবিল500,000নির্বাচনী প্রকল্পে স্বাধীন খরচের জন্য
টেলিফোন ভাতা7,800মাসিক টেলিফোন খরচ
সংসদ ভবন হোস্টেলসংসদ সদস্যদের থাকার সুবিধা

উল্লেখ্য, ২০১৫-২০১৯ সালের মধ্যে একজন সংসদ সদস্যকে প্রতিবছর ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা আগের ২ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, এই বরাদ্দ মূলত স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার হয় এবং প্রকল্প বাছাইয়ে সংসদ সদস্যদের পূর্ণ এখতিয়ার থাকে।

ক্ষমতা ও প্রভাব

সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়নের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও নির্বাহী কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য সহায়তা, বয়স্ক ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পসহ প্রায় ৪০ ধরনের সরকারি সুবিধা বিতরণে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া স্থানীয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তি, সরকারি চাকুরির নিয়োগ এবং প্রশাসন ও পুলিশের কার্যক্রমেও তাদের প্রভাব লক্ষ্যযোগ্য।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা কেবল আইন প্রণয়নে সীমাবদ্ধ নয়; তারা স্থানীয় উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন।”

এভাবে একজন সংসদ সদস্য শুধু সরকারি বেতন-ভাতা নয়, বরং স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন, যা দেশ ও জনগণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টি করে।