মোব তৈরির আগেই তিতাস ছাড়ার হুঁশিয়ারি বিএনপির এমপির

নবনির্বাচিত কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া তিতাস উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া মমিনকে মব সৃষ্টি হওয়ার আগে অন্যত্র বদলি হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গত শনিবার সন্ধ্যার আগে কলাকান্দি এলাকায় উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন এমপি সেলিম। অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

সেলিম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, তিতাস ইউএনও তাদের সঙ্গে ‘বিমাতাসুলভ আচরণ’ করেছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে এক দিনের জন্যও আমি তিতাস ইউএনও সুমাইয়া মমিনের সঙ্গে কথা বলিনি। জনগণের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা ব্যক্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া আমার দায়িত্ব। আমি আশা করি, তিনি দ্রুত অন্যত্র বদলি হয়ে যাবেন, কারণ তিনি সম্মানজনক আচরণ জানেন না। আমি তাকে সতর্ক করে দিয়েছি, যদি কোনো মব সৃষ্টি হয়, তার জন্য তিনিই দায়ী থাকবেন।”

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সরকার সহ আরও অনেকে।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সদ্য নির্বাচিত এমপি ও ইউএনওর মধ্যে এই ধরনের সংঘাত স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষত নির্বাচনের পর রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পর্ক সাধারণত চূড়ান্ত সংবেদনশীল হয়ে থাকে।

নিচের টেবিলে সদ্য নির্বাচিত এমপি এবং উপজেলা ইউএনওর প্রাসঙ্গিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

পদ ও নামউপজেলা/আসনরাজনৈতিক দলমন্তব্য/অভিযোগ
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস)বিএনপিইউএনওর বিরুদ্ধে ‘বিমাতাসুলভ আচরণ’ অভিযোগ, হুঁশিয়ারি প্রদান
সুমাইয়া মমিনতিতাস উপজেলাসরকারি কর্মকর্তানেতাদের সঙ্গে বিরোধিতা ও খারাপ আচরণের অভিযোগ

স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের টানাপোড়েন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে নির্দেশ করে। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় কর্মকর্তা মহল উভয়েই সতর্ক হয়ে উঠেছেন।

সেলিম ভূঁইয়ার হুঁশিয়ারি নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে যে, নির্বাচনের পর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।