পাকিস্তান হার: ভারত এগিয়ে, বিতর্ক উস্কানি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচ শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট মহলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কলম্বোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পাকিস্তান ১৭৫ রানের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়ে ৬১ রানে হেরে যায়। ম্যাচে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি। ভারতের ধারাবাহিক ও দৃঢ় বোলিং আক্রমণে পাকিস্তান সর্বোচ্চ ১১৪ রানের সংগ্রহেই থেমে যায়।

এই হারের পর পাকিস্তানি সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে। সাবেক লেগ স্পিনার দানিশ কানেরিয়া সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “সত্যি বলতে, বর্জন করাটা হয়তো কম লজ্জাজনক হতো।” কানেরিয়ার এই মন্তব্য পাকিস্তানের বর্তমান দলকে নিয়ে দেশের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সাবেক ব্যাটসম্যান ও ধারাভাষ্যকার রমির রাজা বলেছেন, “পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। ভারত গত দুই-তিন বছর ধরে একই বোলিং আক্রমণ ব্যবহার করছে, আর পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা সবসময়ই সাধারণ মানের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।” একই সঙ্গে সাবেক ব্যাটার বাসিত আলি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দুর্বলতা তুলে ধরেছেন এবং বাবর আজমকে চারে নামানোর সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

পাকিস্তানের দুর্বলতা শুধুমাত্র দেশীয় পর্যবেক্ষকদের নজরেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাও তা লক্ষ্য করেছেন। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন মন্তব্য করেছেন, “ভারতের মতো দক্ষ দলের বিপক্ষে পাকিস্তান মানসিক চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। ভারত খেলার সব বিভাগে দক্ষ এবং বড় আসরের চাপ সামলাতে প্রস্তুত।”

ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর উদ্ধৃতিতে ভারতীয় কিংবদন্তি অনিল কুম্বলে বলেছেন, “এটি কোনো সমান লড়াই ছিল না। ভারতের বোলাররা অসাধারণ খেলেছে। পিচ ব্যবহারের দক্ষতা হার্দিক পাণ্ডিয়ার কাছ থেকে দেখা গেছে। আর জসপ্রিত বুমরাহ একেবারে অনন্য।” সাবেক ভারতীয় পেসার ইরফান পাঠানও মনে করছেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এখন আর কেবল মাঠের ভিতরে নয়; এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত মাঠের বাইরের উত্তাপের কারণে আলোচিত।”

নিচের টেবিলে পাকিস্তান ও ভারতের প্রধান পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত তুলনা দেওয়া হলো:

বিভাগপাকিস্তানভারত
রান১১৪ (টেনেটুনে)১৭৫
হারের ব্যবধান৬১ রানের
ব্যাটসম্যান হাইলাইটবাবর আজমহার্দিক পাণ্ডিয়া
বোলার হাইলাইটজসপ্রিত বুমরাহ
মানসিক চাপ মোকাবিলাদুর্বলউচ্চ
বিশেষ মন্তব্যবর্জন কম লজ্জাজনকঅনন্য বোলিং দক্ষতা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হারের পর পাকিস্তান দলকে পুনর্গঠন এবং মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর জন্য কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন। ব্যাটিং ও বোলিং দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি ছাড়া পাকিস্তানের জন্য ভবিষ্যতের বড় আসরে সাফল্য আসা কঠিন হবে। বিশেষ করে নতুন খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি ও দলগত সমন্বয় উন্নত না হলে, পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যেতে পারে।