সাভারে ইয়াবা পাচারকারি গ্রেপ্তার অভিযান সফল

সাভারের আশুলিয়া এলাকায় ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এক বিশেষ অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবাসহ দুই পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর উপকণ্ঠে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল।

ডিবি পরিদর্শক মো. সাইদুল ইসলাম সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেন, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

  • মো. রেজ্জাকুল হাবিব মানিক (৩৮), মিঠাপুকুর, রংপুর জেলার খোড়াগাছা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে।

  • মো. মামুনুর রশিদ মামুন (৩০), মিঠাপুকুর, রংপুর জেলার টিকানী মণ্ডলপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলা রয়েছে। মানিকের বিরুদ্ধে পাঁচটি, আর মামুনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার বেশিরভাগই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের।

গ্রেপ্তারকৃতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য

নামবয়সস্থায়ী ঠিকানাপূর্বের মামলা সংখ্যা
মো. রেজ্জাকুল হাবিব মানিক৩৮মিঠাপুকুর, রংপুর৫টি
মো. মামুনুর রশিদ মামুন৩০মিঠাপুকুর, রংপুর৩টি

পরিদর্শক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে। তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত আছে।”

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ও আশেপাশের আবাসিক এলাকায় ইয়াবার সেবন ও বেচাকেনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমঘন এই এলাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শ্রমিক ও তরুণদের একাংশকে টার্গেট করে মাদকচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে, মাদককারবারিরা কৌশল পরিবর্তন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইয়াবা পাচার ও বিক্রয় দমন করতে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক নজরদারি, তরুণদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, মাদকচক্র নতুন সদস্য সংগ্রহ করে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং স্থানীয় জনগণকে সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই অভিযান রাজধানীর আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের কার্যকারিতার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।