কোথায় থাকবেন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এখন দলের অভ্যন্তরে এবং জোটশক্তি জামায়াতসহ অন্যান্য সহযোগী দলের মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভায় কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে তা নিয়ে তৎপর আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার নতুন সংসদ সদস্য ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরকারি বাসভবনে উঠবেন। এ মুহূর্তে সরকারি বাসভবন ও বাংলো প্রস্তুতের বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা চলছে।

সরকারি বাসভবন ও বরাদ্দের অবস্থা

সরকারি বাসভবনের মোট সংখ্যা ৭১টি, যা নতুন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর জন্য সংরক্ষিত। বর্তমানে এগুলোর মধ্যে অর্ধেক খালি এবং অবশিষ্ট বাসাগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা অবস্থান করছেন।

টেবিল: সরকারি বাসভবনের প্রাথমিক তথ্য

পদমর্যাদাবরাদ্দযোগ্য বাসা সংখ্যাবর্তমান অবস্থামন্তব্য
প্রধানমন্ত্রীসংস্কারের অপেক্ষায়কোন বাসায় উঠবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি
বিরোধীদলীয় নেতানির্ধারিত২৯ মিন্টো রোডে থাকবেন জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমান
মন্ত্রী২০অর্ধেক খালিপরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের পর বসবাসযোগ্য
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী১০অর্ধেক খালিশপথ গ্রহণের পর বরাদ্দ দেওয়া হবে
অন্যান্য সমমানের কর্মকর্তা৩৯বসবাসরতবাসা ছাড়লে প্রস্তুত করা হবে

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, “নতুন প্রধানমন্ত্রী কোন বাসায় উঠবেন তা এখনও আমাদের জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে বাসা সংস্কারের কাজ শুরু হবে।”

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, “শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণের পরই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা বাসাসহ অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্য হবেন। যদি বাসা বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব হয়, তবে সরকারি ভাতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বাসভবন গণভবন, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে, এবার নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত নয়। ফলে তাকে সম্ভাব্যভাবে বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা এলাকায় উঠতে হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেই।

রাজধানীর সরকারি বাসভবনের অবস্থান

নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য বাসা বরাদ্দ করা হয় মূলত রাজধানীর প্রধান এলাকা:

  • বেইলি রোড

  • মিন্টো রোড

  • হেয়ার রোড

  • ধানমন্ডি

  • সংসদ ভবন এলাকা

  • গুলশান

বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু উপদেষ্টা ইতিমধ্যে সরকারি বাসভবন ছাড়ছেন। এর মধ্যে আছেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী। তাদের ছাড়ার পর বাসাগুলো নতুন সরকারের জন্য প্রস্তুত হবে।

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের পর সরকারি বাসভবনের বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর বিষয়টি যথাসময়ে সম্পন্ন করার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নতুন সরকারের প্রথম দিন থেকেই সরকারি আবাসন ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক উদ্যোগ তৎপর।