সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দেশবাসীকে রমজান মাসের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এই ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষের মতে, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ১৮ অথবা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে।
সৌদি সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যারা চাঁদ দেখবেন—চোখে সরাসরি বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে—তাদের নিকটবর্তী আদালতে তা জানাতে হবে। রমজান মাস ইসলামিক চন্দ্রপঞ্জিকার নবম মাস এবং এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত পবিত্র। রমজান শুধু সিয়াম সাধনার মাস নয়; বরং এটি আল্লাহর রহমত ও করুণা প্রাপ্তির, গুনাহ মাফের এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির এক বিশেষ সময়।”
রমজান মাসের মর্যাদা কোরআন ও সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এই মাসে মুসলিমরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার, পানীয় এবং অন্যান্য শারীরিক চাহিদা থেকে বিরত থাকেন। সূর্যাস্তের পর ইফতার নামক প্রথা অনুযায়ী রোজা ভাঙা হয়।
সৌদি আরবসহ জিসিসি (GCC) সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে রমজান মাস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মঘণ্টা কমানো হয়। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধর্মীয় উদযাপন, ইফতার ও রাতে সেহরির জন্য পর্যাপ্ত সময় পান।
নিচের টেবিলে সৌদি আরবে রমজান মাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| চাঁদ দেখার তারিখ | ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার |
| রোজা শুরু সম্ভাব্য তারিখ | ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| মাসের মর্যাদা | ইসলামের নবম মাস, সিয়াম ও ইবাদতের মাস |
| ধর্মীয় কার্যক্রম | রোজা, ইফতার, তাড়বীহ, দান ও কোরআন তিলাওয়াত |
| সরকারি কর্মঘণ্টা | কমানো হয়েছে, সাধারণত সংক্ষিপ্ত কার্যদিবস |
| বিশেষ তৎপরতা | চাঁদ দেখা ও স্থানীয় আদালতে জানানো প্রয়োজন |
রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সহনশীলতা এবং দরিদ্র ও অসহায়দের প্রতি সহমর্মিতা শেখার সময়। সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ ও ধারাবাহিক উদযাপনের জন্য নিয়মিত নির্দেশনা প্রদান করে থাকে।
মুসলিমরা রমজান মাসকে শুধুমাত্র খাদ্য-সংযমের সময় হিসেবে নয়, বরং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির একটি সুযোগ হিসেবেও গ্রহণ করে। দেশের সব স্তরের মানুষই এই পবিত্র মাসকে যথাযথভাবে পালন করতে উৎসাহিত।
