এফএ কাপের মঞ্চে প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্ট আর্সেনালের দাপুটে জয় নিশ্চিত হয়েছে। গত মৌসুমে ক্রিস্টাল প্যালেসের হয়ে এফএ কাপের ফাইনালে জয়সূচক গোল করা এবেরেচি ইজে এদিন আর্সেনালের জার্সিতে আবারও নিজের জাত চেনালেন। লিগ ওয়ানের রেলিগেশন জোনে ধুঁকতে থাকা উইগান অ্যাথলেটিককে নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করেছে গানাররা। ইজের অসাধারণ সৃজনশীলতা এবং গতির কাছে পরাস্ত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে উইগানকে। এই জয়ের মাধ্যমে আর্সেনালের ঐতিহাসিক ‘কোয়াড্রুপল’ বা চার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এখনো উজ্জ্বল হয়ে টিকে রইল।
ইজের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
গত কয়েক মাস এবেরেচি ইজের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর তাঁকে নিয়ে নানা সমালোচনা চলছিল। তবে এফএ কাপের এই ম্যাচটি যেন ইজের আর্সেনাল ক্যারিয়ারে নতুন প্রাণের সঞ্চার করল। গত নভেম্বরে নর্থ লন্ডন ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করার পর তাঁর মাঝে যে তেজ দেখা গিয়েছিল, উইগানের বিপক্ষে ম্যাচে সেই পুরনো মেজাজেই ধরা দিলেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। কেবল বল নিয়ন্ত্রণেই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য। ননি মাদুয়েকে এবং গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে তাঁর নিখুঁত অ্যাসিস্টগুলো ছিল দেখার মতো।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও কৌশল
ম্যাচ শুরুর আগেই আর্সেনাল শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল। মূল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ইনজুরির কারণে স্কোয়াডে ছিলেন না এবং কাই হাভার্টজ পেশির চোটের কারণে পরবর্তী অন্তত চার ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে মিকেল আর্তেতা কৌশলগত পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন। ওয়ার্মআপের সময় রিকার্ডো কালাফিওরি চোট পাওয়ায় বাধ্য হয়ে মাইলস লুইস-স্কেলিকে লেফট-ব্যাকে এবং বুকায়ো সাকাকে ১০ নম্বর পজিশনে খেলানো হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই উইগানকে কোণঠাসা করে ফেলে আর্সেনাল। ২৭ মিনিটের মধ্যেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তারা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলে। নিচে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাক্রম টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
টেবিল: আর্সেনাল বনাম উইগান ম্যাচের পরিসংখ্যান ও গোলদাতার তালিকা
| গোলদাতা | সময় (মিনিট) | অ্যাসিস্ট | গোল হওয়ার প্রকৃতি |
| ননি মাদুয়েকে | শুরুতেই | এবেরেচি ইজে | ইজের ডিফেন্স চেরা থ্রু বলে প্লেসিং ফিনিশ। |
| গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি | ১৫ মিনিটের মধ্যে | এবেরেচি ইজে | বাঁ পায়ের অসাধারণ ক্রসে মার্টিনেল্লির গোল। |
| জ্যাক হান্ট (আত্মঘাতী) | ২৩ মিনিট | – | সাকা ও মাদুয়েকের যৌথ আক্রমণের চাপে ভুল। |
| গ্যাব্রিয়েল জেসুস | ২৭ মিনিট | ক্রিশ্চিয়ান নোরগার্ড | নোরগার্ডের লম্বা পাস থেকে জেসুসের নিখুঁত ফিনিশ। |
| ফলাফল | আর্সেনাল ৪-০ জয়ী | – | – |
তরুণদের অভিষেক ও আগামীর ভাবনা
দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল তাদের আধিপত্য বজায় রাখলেও আর কোনো গোল করতে পারেনি। তবে উইগান গোলরক্ষক স্যাম টিকল বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। ম্যাচে আর্তেতা ১৬ বছর বয়সী তরুণ ডিফেন্ডার মার্লি স্যালমনকে ঘরের মাঠে অভিষেকের সুযোগ করে দেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এই কিশোর ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবার বদলি হিসেবে নেমে ডানপ্রান্তে আস্থার পরিচয় দিয়েছেন।
এই জয়টি আর্সেনালের জন্য কেবল একটি জয় নয়, বরং আসন্ন উলভস ম্যাচ এবং টটেনহ্যামের বিপক্ষে ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়ার রসদ। বিশেষ করে মার্টিনেল্লি চলতি মৌসুমে এফএ কাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে ১০টি গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
উইগানের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গ্লেন হুইলান ও গ্রাহাম ব্যারো ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন যে, আর্সেনালের মতো রেকর্ড ১৪ বারের শিরোপাজয়ীদের আটকানো তাঁদের সামর্থ্যের বাইরে ছিল। এখন উইগানের মূল লক্ষ্য থাকবে লিগ ওয়ানে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। অন্যদিকে, আর্তেতার নজর এখন চোটজর্জর দল নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান ধরে রাখার দিকে।
