খাসির মাংসের নামে কুকুরের মাংস বিক্রি: জনরোষ ও পুলিশি অভিযান

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় খাসির মাংসের দোকানে কুকুরের মাংস বিক্রির এক রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ফাঁস হয়েছে। উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ী বাজারে রবিবার সকালে এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত দুই কসাই বর্তমানে পলাতক থাকলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ জবাই করা কুকুরের মাংস উদ্ধার করেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রহস্য উদ্ঘাটন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবাড়ী বাজারের নেংড়াপীর-ইসবপুর সড়কের তেতুলতলী মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে খাসির মাংসের ব্যবসা করে আসছিলেন স্থানীয় কসাই এনতাজুল ও তাঁর সহযোগী দুলু মৌলভী। প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালেও তাঁরা বাড়ি থেকে খাসির মাংস হিসেবে দাবি করা মাংসের পসরা সাজিয়ে বসেন। তবে সকালের দিকে এনতাজুলের বাড়িতে একটি কুকুর জবাই করার দৃশ্য জনৈক প্রতিবেশীর নজরে আসে। এই খবরটি দ্রুত লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লে বাজারে গুঞ্জন শুরু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা যখন তাঁদের দোকানে গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন, তখন দুই কসাই কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং জনতার হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা তড়িঘড়ি করে দোকানের মাংস ফেলে রেখে পালিয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং কয়েকশ উৎসুক মানুষ ও বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।

উদ্ধারকৃত মাংস ও প্রশাসনের ভূমিকা

খবর পেয়ে ধামইরহাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত মাংসের আকার ও প্রকৃতি দেখে সেগুলো যে কুকুরের, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল।

টেবিল: ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও প্রশাসনিক তথ্য

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
ঘটনাস্থলতেতুলতলী মোড়, মঙ্গলবাড়ী বাজার, ধামইরহাট।
প্রধান অভিযুক্তএনতাজুল (পিতা: অলি শাহ্)
সহযোগী অভিযুক্তদুলু মৌলভী (পিতা: আহমদ হোসেন)
উদ্ধারকৃত মাংসের পরিমাণপ্রায় ২৫ কেজি
অভিযোগের প্রকৃতিখাসির মাংসের ছদ্মবেশে কুকুরের মাংস বিক্রি।
আইনি পদক্ষেপমাংস জব্দ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলমান।

জনমনে আতঙ্ক ও কঠোর শাস্তির দাবি

মঙ্গলবাড়ী বাজারের সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দোকানে মাংস ক্রয় করা নিয়মিত ক্রেতারা নিজেদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও এই চক্রটি এমন জঘন্য কাজ করে থাকতে পারে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, পুলিশ জবাই করা কুকুরের মাংসগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করেছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মতো এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে।

এই ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং চরম নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখছেন সচেতন সমাজ। বাজারে বিক্রি হওয়া পশুর মাংসের মান ও ধরন নিয়মিত তদারকি করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।